‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সায়মা ওয়াজেদ

অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল। তিনি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস অ্যান্ড অটিজম সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি।

সায়মা ওয়াজেদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং- ফোকাস বাংলা

জনস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ডব্লিউএইচও নতুন দুটি সম্মাননা চালু করেছে, সর্বপ্রথম এটি অর্জন করলেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মাননা পাওয়ার পর সায়মা ওয়াজেদ তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় অনুষ্ঠান স্থলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের জন্য পূর্ব তিমুরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকেও (এমএনসিপি) সম্মাননা দেওয়া হয়। পূর্ব তিমুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সার্জিও জি.সি লোবো এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পুরস্কার গ্রহণ করে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, ‘আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়ায় সম্মানিত বোধ করছি।’ এই অর্জনকে অটিজম আক্রান্ত ও তাদের পরিবারকে উৎসর্গ করেন তিনি।

সম্মাননা পাওয়ার পর মা শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ধরেন সায়মা- ফোকাস বাংলা

তিনি বলেন, ‘একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার দায়িত্ব এ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা এবং আমি  সাধ্য অনুযায়ী সেই দায়িত্ব পালন করব।’

এ সম্পর্কে ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের ভূমিকা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজিসেস অ্যান্ড চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারস বিষয়ে সায়মা হোসেনের কর্ম প্রচেষ্টা বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব গঠনে সাহায্য করেছে, তার ফলশ্রুতিতেই জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে মানুষের জীবন বাঁচিয়ে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছে পূর্ব তিমুর। এ কারণে দেশটি প্রশংসার দাবিদার এবং স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই কর্মসূচিকে সম্মাননা প্রদান করেছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন প্রবর্তিত পুরস্কার দুটির একটি স্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য একজন ব্যক্তিকে এবং অপরটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। সর্বপ্রথম সম্মাননা হিসেবে ব্যক্তি পর্যায়ে মনোনীত হন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত হয় পূর্ব তিমুরের এমএনসিপি।

অটিজম বিষয়ে ঢাকায় কর্মশালা

অটিজম স্পেকট্রাম মোকাবেলায় অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মাননা বিজয়ী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত বিশ্বব্যাপী অটিজম মোকাবেলার উদ্যোগ অটিজমসহ অন্যান্য স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিতরা উপকৃত হবেন।

বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘অটিজম ও স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান।

বিশ্বব্যাপী অটিজম মোকাবেলায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অটিজম’ এবং এ সম্পর্কে জনমত গড়ে তুলতে তার নিষ্ঠা ও কর্মপ্রচেষ্টার প্রশংসা করেন চ্যান। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে স্নায়ুবিক জটিলতা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনু বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ কর্মশালায় ঢাকায় অবস্থিত ৩০টিরও বেশি কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক বৈঠকে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।