বিটি বেগুন নিরাপদ পরীক্ষিত সবজি

বিশ্বের ৬ গবেষণাগার ক্ষতিকর কিছু পায়নি

মিথুন মাহফুজ: দেশে ৮০ লাখ কৃষক বেগুনের চাষ করেন। এর মধ্যে পরীামূলকভাবে জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা জিন-পরিবর্তনকৃত বিশেষ বিটি বেগুনের চাষ করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে বিটি বেগুন চাষের প্রণোদনা দেওয়া হয়। তবে মাঠপর্যায়ে এর বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করছে কিছু সংস্থা ও ব্যক্তি। বিটি বেগুন সম্পর্কে সরকার বলছে এটি পরীক্ষিত এবং এর কোনো ক্ষতিকর দিক নেই।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিটি বেগুনের চাষ অনুমতি পায়নি স্থানীয় এনজিও আর খামারিদের বিােভের মুখে। তাদের যুক্তি হলো- ভবিষ্যতে এটা মানবদেহের জন্য তিকারক এক খাবারে পরিণত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের পরামর্শক দল ও সরকারি কৃষি কর্তৃপ বিএআরআই জোর দিয়ে জানিয়েছে, পৃথিবীর ছয়টি স্বনামধন্য গবেষণাগারে এই বিটি বেগুনের গুণাগুণ আর সম্ভাব্য তি নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। গবেষণাগুলোর প্রতিবেদনের একটিতেও মানবদেহের জন্য তিকর কোনো পদার্থ পাওয়া যায়নি। ইউএসএইডের কৃষি গবেষকদের অভিযোগ, বিটি বেগুন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিটি বেগুন আমেরিকাসহ পৃথিবীর অন্য দেশের নাগরিকরা স্বাভাবিকভাবেই খাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম ম-ল জানান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য আদৌ তিকর নয়। উন্নত বিশ্বে আবিষ্কৃত কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের জিন বাংলাদেশি নয়টি জাতে সংযোজন করে বিটি বেগুন নামে নয়টি জাত উদ্ভাবন করা হয়। তাই এর জাতগুলো নতুন নয়, এগুলো প্রচলিত জাত; যা কৃষক পছন্দ করেন। শুধু পার্থক্য এরা একটি জিন বহন করে, যা তাদের বেগুনের তিকর ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধ করার মতা রাখে। বিটি প্রোটিন মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর ওপর তিকর প্রভাব ফেলে না। উদ্ভাবিত জাতগুলো হাইব্রিড না হওয়ায় নিজেদের বীজ কৃষকরা নিজেরাই উৎপাদন ও সংরণ করতে পারবে। তিনি জানান, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যকে মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা এ জাত উদ্ভাবন করেছেন। অন্য ফসল যেমন তুলার সঙ্গে বিটি বেগুন চাষ করলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায় না, বরং বাড়ে। পেশাগত জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজম) এবং ইউরোপভিত্তিক এনজিওগুলোর কারণে ভারত ও ফিলিপাইনে বিটি বেগুন উদ্ভাবিত হয়নি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বায়োটেকনোলজিস্ট, উদ্ভিদ প্রজননবিদ, মৃত্তিকা বিজ্ঞানী, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও কীটতত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম গঠন করে ২০০৫ সালে বিটি বেগুনের ওপর গবেষণা শুরু হয়। পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে এবং বায়োসেফটি কমিটির অনুমোদনসাপেে এবং বায়োসেফটি নিয়ম অনুসরণ করে ২০০৮-১৩ সাল পর্যন্ত দেশের সাতটি স্থানে বিটি বেগুনের ওপর বহু স্থানিক পরীা করা হয়। দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা করে এর ফলের ভিত্তিতে এবং দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিএআরআই বিটি বেগুনের জাত অবমুক্ত করে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, বিটি বেগুন নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে তা সঠিক নয়। বিটি বেগুনের জিন কখনো অন্য ফসলের জন্য তিকর নয়। বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশে (বাংলাদেশ, ভারত ও ফিলিপাইন) বিটি বেগুন নিয়ে কাজ করা হয়েছে।
ভারতে বিটি বেগুন নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, বিটি তুলা চাষাবাদের সময়ও ভারতে এমনটি ঘটেছিল। ভারত একসময় তুলা আমদানিকারক ছিল। বর্তমানে রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। কারণ হচ্ছে বিটি তুলা।
তিনি আরও বলেন, বিটি বেগুনের জিন নির্দিষ্ট। একটি নির্দিষ্ট জিন একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। সোলানেসি পরিবারের বিভিন্ন ফসল যেমন- আলু, তামাক ইত্যাদির সঙ্গেও তেমন কোনো তিকর প্রভাব দেখা যায়নি।
এ বেগুন মানবদেহের প্রজনন স্বাস্থ্যের তি, লিভার য়, অঙ্গ য় এবং রোগ প্রতিরোধ মতা কমিয়ে দেয় কি না এমন প্রশ্নে ড. নাসির বলেন, জিএম শস্য বাজারজাত করার আগে কয়েকবার পরীা-নিরীা করা হয়।