সম্মাননা পেল ৩৪টি শ্রেষ্ঠ তথ্য বাতায়ন

জাতীয় তথ্য বাতায়ন নির্মাণ, সমৃদ্ধকরণ ও নিয়মিত হালনাগাদে বিশেষ অবদান রাখায় রবিবার দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ৩৪টি বাতায়নকে সম্মাননা দেওয়া হলো।

বিভাগীয় পর্যায়ে ৩, জেলা পর্যায়ে ১৫, উপজেলা পর্যায়ে ৯ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭টি তথ্য বাতায়নকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

ইউএনডিপি ও ইউএসএইড-এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম -এর উদ্যোগে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি একটি কাঁচের ঘরের মতো। এই স্বচ্ছ ঘর বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধীরা ভেঙে ফেলতে উঠে পড়ে লেগেছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যক্রম চলছে।

সাইবার অপরাধীদের পোকামাকড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জানালা খোলা থাকলে সেখানে সূযের্র আলোর পাশাপাশি কিছু পোকামাকড়ও ঢুকে পড়ে। এসব পোকামাকড়কে বিদায় করতে প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা।

তিনি এ কে খন্দকারকে পিঁপড়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন হাতি। সেখানে তার মতো একজন পিঁপড়া কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করে। আপনি পিঁপড়া, পিঁপড়া হয়েই থাকুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. নজরুল ইসলাম, এটুঅাই-এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী দেশীয় পরিচালক কেএএম মোর্শেদসহ অারও অনেকে।

এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে দেশের সব ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে তৈরি করা হয়েছে “জাতীয় তথ্য বাতায়ন“। জনগণের তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে নতুন আঙ্গিকে নির্মিত এই তথ্য বাতায়নগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের উদ্যোগে হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সব সরকারি ওয়েবসাইটকে একসূত্রে সংযুক্ত করে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, উদ্ভাবনী ও জনমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতেই জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে নাগরিকরা সহজে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, আইন, পর্যটন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য পাচ্ছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সার্কুলার বা গেজেট, ৪০০ ধরনের ই-সেবা পাওয়ার ধাপ, সরকারি ফর্ম, সিটিজেন চার্টার, কর্মকর্তাদের তালিকা, ৭ লাখের বেশি ই-ডিরেক্টরি, মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য, জনপ্রতিনিধি, জাতীয় ই-সেবা, বিভিন্ন প্রকল্পর দরকারি তথ্যসহ মোট ২০ লাখের বেশি কনটেন্ট পাওয়া যাচ্ছে।

এসব বিষয় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে মোবাইল অ্যাপস।