এমডিজি অর্জনে ঘোষিত আটটি বিষয়ের সবকটিতেই বাংলাদেশ সফল

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এমডিজি) অর্জনে ঘোষিত আটটি বিষয়ের সবকটিতেই বাংলাদেশ সফল। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য এমডিজি বাস্তবায়নে মডেল হবে। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের এমডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি পলিন টমাসিচ, পরিকল্পনা সচিব ভূইয়া সফিকুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন জিইডির সদস্য ড. শামসুল আলম।
মূলত প্রত্যাশিত হারে বিদেশি সহায়তা না আসায় কিছু সূচকে এমডিজি অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এমডিজি অর্জনে ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৭ হাজার ৮২০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন ছিল। এ খাতে প্রতি বছর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৫০০ কোটি ডলার ও বিদেশি উৎস থেকে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল। সর্বশেষ হিসাবে বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ১৬৮ কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে। এমডিজি অর্জনে নিজস্ব সম্পদই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরবর্তী ধাপে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এমডিজির অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং প্রস্তুত। আমরা জানি কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। কীভাবে সব বাধা অতিক্রম করতে হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ সেগুলো অর্জন করবেই।
এ সময় ড. মশিউর রহমান বলেন, এমডিজির লক্ষ্য উন্নয়নের সব দিকই বাংলাদেশের ইতিবাচক। তবে এ কথাও সত্য, লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যাশিত হারে বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে আমাদের বিদেশি সহায়তার দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। এরই মধ্যে আমরা সাহায্যনির্ভরতা কমাতে শুরু করেছি।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি পলিন টমাসিচ বলেন, দারিদ্র্য নিরসন, শিশুমৃত্যুর হার কমানো ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে বাংলাদেশের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এ বিষয়ে রোলমডেল হতে পারে বাংলাদেশ।