হবিগঞ্জের লেবু যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে

হবিগঞ্জের পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লেবু চাষ হচ্ছে। তাতে করে একশ্রেণীর বেকার লোক স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে। আরও সুখবর হলো, এখানকার চাষকৃত লেবু যুক্তরাজ্যসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। এতে করে কৃষক ও রফতানিকারক উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। এক সময় এ জেলার প্রচুর পাহাড়ি জমি পতিত পড়ে থাকত। কোনো এক সময় পাহাড়ি আদিবাসীরা এ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লেবু চাষ শুরু করে সফলতা পায়। পরবর্তী সময় বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ে লেবু চাষ শুরু হয়। এসব চাষ লাভজনক দেখে সমতল এলাকার লোকও লেবু চাষ শুরু করেছে। লেবু চাষে তেমন একটা খরচ হয় না। সেইসঙ্গে এ চাষে তেমনটা ঝুঁকি নেই বিধায় দিন দিন কৃষক এদিকে ঝুঁকে পড়ছেন। কৃষকরা বলছেন, যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা শতভাগ প্রয়োগ করা হয় লেবু চাষের পরিধি হবিগঞ্জে আরও বিস্তৃত হবে। জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, মাধবপুর, চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত জমিতে লেবু চাষ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। প্রথম অবস্থায় লেবুর মূল্য তেমন না থাকলেও বর্তমানে এ চাষ করে কৃষক লাখ লাখ টাকা পাচ্ছেন। লেবুগুলো পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মুচাই ও মিরপুর আড়তে নিয়ে আসা হয়। ওই স্থানগুলোতে লেবু কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে পাইকাররা গড়ে তুলেছেন বেশ কয়েকটি আড়ত। এ আড়তে কৃষকরা নানা যানবাহনযোগে লেবু বিক্রি করার জন্য প্রতিদিন নিয়ে আসেন। পাইকাররা এসব ক্রয় করে ঢাকার কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠান। আন্নর আলী, রমিজ মিয়া, মাসুক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন পাইকারের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, হবিগঞ্জের পাহাড়ি অঞ্চলের লেবু দিয়ে নানা ধরনের জুস, খাবার তৈরি করা সম্ভব। এজন্য গড়ে তুলতে হবে কারখানা। এখানে কারখানা করলে লেবুর মূল্য আরও বেড়ে যাবে। এতে করে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হয়ে লেবু চাষে আরও মনোযোগী হবেন। এক সময় লেবুর তেমন দাম ছিল না। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি লেবু ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বিক্রেতারা ওই লেবু ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে। স্থানীয় বাজারে লোকজনের চাহিদা পূরণ করে হবিগঞ্জের লেবুগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পাশাপাশি দেশের বাইরে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে এগুলো পাঠানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষক মাসুদ মিয়া জানান, তিনি প্রায় ১০ একর জমিতে লেবু চাষ করেছেন। প্রতি বছর লাখ টাকার ওপরে আয় হয় তার। অন্য ফসল চাষের তুলনায় লেবু চাষে খরচ তেমন একটা হয় না। লেবুতে কেমিক্যাল প্রয়োগ না করলেও চলে। তবে সার, গোবর দিতে হয়। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শাহআলম জানান, লেবু চাষে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, জেলার প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে। – See more at: http://www.alokitobangladesh.com/last-page/2014/09/04/94342#sthash.CMzaOhWY.dpuf