শান্তিরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্রিয় বাংলাদেশ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্রিয় হচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, এবার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের প্রধান হার্ভে লাডসুসের পরামর্শ বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া দেশগুলোর ভাষাগত দক্ষতা অর্জন, দেশগুলো সস্পর্কে ভালো ধারণা সৃষ্টি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও মানষিক সামর্থ্য তৈরি, চাহিদা অনুযায়ী বাহিনী প্রেরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়াসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দৈনিক বর্তমানকে জানান, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন কমসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মী পাঠানোর সম্ভাব্য দেশ, তাদের ভাষাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিস্তর জ্ঞান থাকলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশিদের নিয়োগ করা সহজ হবে। এমনকি বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়েও পদায়ন করা যাবে। কারণ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশিদের রেকর্ড তুলনামূলক অনেক ভালো।’

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে একজন বাংলাদেশি নিয়োগসহ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং মালিতে নতুন করে আরও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োগের বিষয়ে জোর আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত আরও কিছু সৈন্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো সম্ভব হবে।’

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় এবং নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে সময়োপযোগী নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে ঘোষণা দিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের চিন্তার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ সৈন্য প্রস্তুতের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিপসটকে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের প্রয়োজনে বিপসট নতুন কয়েকটি কোর্স তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে সংযোজন করেছে।

সূত্রের হিসাবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বর্তমানে ৮ হাজার ৮৪৬ জন বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর ৭ হাজার ৮৩ জন, পুলিশের ১ হাজার ৫৮ জন (২৮০ জন নারীসহ)। দীর্ঘ ১৮ বছরের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশকে বড় আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের ১১৮ জন শান্তিরক্ষী নিহত ও অসংখ্য আহত হয়েছেন।

এদিকে গত মাসে (২৩ জুলাই) প্রথমবারের মতো ৩ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হার্ভে লাডসুস। এ সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হার্ভে লাডসুস শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা (আরবি ও ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষা জানা), দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা ও স্বাগতিক দেশ সম্পর্কে জানার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান অনেক। এ জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী পাঠানোর শীর্ষ তিনটি দেশের অন্যতম হিসেবে রয়েছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ভূমিকা দ্রুত বেড়েছে।

তিনি বলেন, বিপসট শুধু বাংলাদেশি নয়, অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষীদের জন্যও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও সামরিক উপদেষ্টা জাতিসংঘের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ওই সময় বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। শান্তিরক্ষীদের এখন অনেক প্রতিকূল অবস্থাতেও কাজ করতে হচ্ছে। কারণ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনকৃত দেশগুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্য না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।