রাশিয়ায় পণ্য রপ্তানি বাড়ছে

রাশিয়ার বাজারে শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে বাংলাদেশের পণ্য। কয়েক বছর ধরে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। আর গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৫০০ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাশিয়ায় হিমায়িত চিংড়ি, সামুদ্রিক মাছ, সবজি, তামাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ বেশ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।
মূলত দুদেশের সরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি চুক্তির ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দিন দিন আরো দৃঢ় হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্পর্কের এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশটিতে পণ্যের বাজার আরো সম্প্রসারণ করবে। ইপিবির তথ্য মতে, ২০০৯-২০১০ সালে রাশিয়ায় রপ্তানির আয় ছিল প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার। রপ্তানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সদ্যসমাপ্ত (২০১৩-১৪) অর্থবছরে দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রায় ২৮ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ালে রপ্তানি আয় আরো বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশি পণ্যের দাম কিছুটা কম হওয়ায় রাশিয়ায় এসব পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে পরিবহন ব্যবস্থাই রাশিয়ায় পণ্য রপ্তানিতে বড় বাধা।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন, এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘রাশিয়ার সঙ্গে পণ্য পরিবহনের কোনো সহজলভ্য রুট নেই যা আমাদের রপ্তানি একটি বড় বাধা। তবে এবার আমরা ৭-৮ টন আলু রাশিয়াতে রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছি।’
এদিকে দেশটি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আরো অধিক পণ্য আমদানি করতে চাইছে। এর মধ্যে চিংড়ি ও আলুতে আগ্রহ বেশি তাদের। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার এ নিকোলায়েভ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানি করতে চায় রাশিয়া। আলু সংরক্ষণে দেশটি নিজ খরচে প্রয়োজনীয় হিমাগারও স্থাপন করতেও আগ্রহী। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশর আলু, চিংড়ি, হিমায়িত খাদ্য, পাটসহ কৃষিপণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। রাশিয়া এগুলো আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার চাহিদা মোতাবেক উন্নতমানের আলু চাষের জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে বিপুল চাহিদা রয়েছে এবং সেখানে তৈরি পোশাক রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বছর শেষে দুদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এদিকে রাশিয়ার বাজারে চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বাংলাদেশের চিংড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা তৈরি করতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই তালিকাটি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এতে দুপক্ষ সম্মত হলে বাংলাদেশ
থেকে আরো কয়েকটি কোম্পানি রাশিয়ায় চিংড়ি রপ্তানির সুযোগ পাবে।