সাফল্য ধরে রাখতে হবে

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি কেড়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য। এর পেছনে রয়েছে দেশের বিশাল দক্ষ জনগোষ্ঠী। এক্ষেত্রে পোশাক শিল্প খাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। অনেকেই বাংলাদেশকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের জন্য উন্নয়নের মডেল বলছেন। তারা বলছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অনেক সমস্যা থাকার পরও আমরা উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রথম প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশই পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। বিশ্ব নেতারা বারবার একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা বলে আসছেন। আমরা মনে করি, স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশই আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বয়ে আনতে পারে।

নবজাতক ও শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু এবং প্রজনন হার নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা এবং পুষ্টি সেক্টর উন্নয়ন কর্মসূচির (এইচপিএনএসডিপি) সুবাদে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কর্মসূচির খাতওয়ারি অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। ২০১৬ সালের মধ্যে ৮ সূচকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

অনেক চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। সেসবের মধ্যে আছে দক্ষ জনবলের অভাব ও দুর্গম এলাকায় মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো, উপজেলা পর্যায়ে প্রসূতিসেবার স্বল্পতা, পুষ্টি সেবাগুলো মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ। এসব বিষয়কে সামনে রেখে পরিকল্পনামাফিক এগোতে পারলেই কেবল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশানুরূপ সাফল্য আসবে।