হাকালুকিতে দেশের সর্ববৃহৎ পিট কয়লাক্ষেত্র

দেশের অন্যতম বৃহৎ হাওর হাকালুকিতে ২০০ মিলিয়ন টনের বেশি পিট কয়লা মজুত রয়েছে। এটি দেশের সর্ববৃহৎ পিট কয়লাক্ষেত্র। দুই দফায় জরিপকাজ শেষে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক নেহাল উদ্দিন ১৮ জুন বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জরিপে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, হাকালুকি হাওরে ব্যাপক পিট কয়লা মজুত আছে। এটাই দেশের সবচেয়ে বড় পিট কয়লাক্ষেত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুলাউড়া ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে হাকালুকি হাওরের বিস্তৃতি। এর আয়তন প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর। ১৯৮৪ সালের দিকে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের একটি দল পিট কয়লার সন্ধানে হাওরের জুড়ী উপজেলা অংশের চাতলা বিলসহ আশপাশের এলাকায় জরিপ চালায়। এ সময় সেখানে পিট কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ওই দলটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রায় দুই যুগ পর পিট কয়লার সন্ধানে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের একাধিক দল ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ এবং চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই দফায় হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় জরিপ চালায়।

একটি জরিপ দলের প্রধান ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাছুম জানান, হাকালুকি হাওরে ২০০ মিলিয়ন টনের বেশি পিট কয়লা মজুত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যার বাজারমূল্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি। পিট কয়লার নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এগুলোর মানও বেশ উন্নত। সেখানকার পিট কয়লার বয়স পাঁচ থেকে আট হাজার বছর হবে। হাওরের অন্তত ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে পিট কয়লা মজুত রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। এর আগে ফরিদপুরের ভাগিয়াচান্দা বিলে জরিপ চালিয়ে প্রায় ১০০ মিলিয়ন টন পিট কয়লার মজুত পাওয়া যায়।

হাকালুকির পিট কয়লা ৩০ মেগাওয়াটের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমপক্ষে ১০০ বছরের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে দাবি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জরিপকাজে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা।