‘পল্লি জনপদ’ নামে গ্রামের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট করবে সরকার

শহরে নয়, এবার গ্রামের গরিব মানুষের জন্য ফ্ল্যাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও পাস হয়েছে গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। ‘পল্লি জনপদ’ নামে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ প্রকল্পসহ গতকাল একনেকে ৮২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মোট তিনটি প্রকল্প পাস হয়। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।জানা গেছে, একনেকে পাস হওয়া প্রকল্পটি শুধু ফ্ল্যাট বরাদ্দেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, মূলত একটি আবাসন কমপ্লেক্স গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য। যেখানে থাকবে বাজার, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, নিরাপদ পানি, সৌরবিদ্যুৎ ও গবাদিপশু রাখার স্থান। পরীামূলকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের সাতটি উপজেলার সাতটি গ্রামে এ জনপদ গড়ে তোলা হবে। বগুড়ার পল্লি উন্নয়ন একাডেমির সেন্টার ফর ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে সাতটি পল্লি জনপদ নির্মাণ করা হবে। সফল হলে পরে সারা দেশে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি পল্লি জনপদে একটি বহুতল ভবনে ২৭২টি ফ্যাট থাকবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাটগুলোর প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আয়তন হবে ৯১৫, ৭১০, ৪৬০ ও ৩৬৫ বর্গফুট। প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেই ক্রেতা ফ্যাটে উঠতে পারবেন। পরে ১৫ বছরে বাকি অর্থ পরিশোধ করা যাবে। তবে সুবিধাভোগী বা ফ্যাট কিনতে আগ্রহীদের কীভাবে নির্বাচন করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এদিকে ফ্যাটের মূল্য বাবদ অগ্রিম ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য গ্রামের মানুষের আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একনেকে পাস হওয়া অন্য দুটি প্রকল্প হলো- সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প।