চার বছরে আয় সাড়ে ৭ কোটি ডলার : শান্তিরক্ষা মিশন শেষে দেশে ফিরেছে যুদ্ধজাহাজ ‘ওসমান’ ও ‘মধুমতি’

গত চার বছরে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৫২ হাজার ৯২৬ মার্কিন ডলার আয় করে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশের দুটি যুদ্ধ জাহাজ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফল দায়িত্ব পালন শেষে লেবানন থেকে ‘ওসমান’ ও ‘মধুমতি’ নামে দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ গতকাল সোমবার দেশে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ চার বছর পর চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর জেটিতে আগমন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্বাগত জানাতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী। এ সময় চট্টগ্রাম নৌঅঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডারসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও আগত জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নৌজাহাজ ‘ওসমান’-এর সিও এস এম এ কে আজাদ জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফল-এর আওতায় ভূমধ্যসাগরে মাল্টি ন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সে অংশগ্রহণের উদ্দেশে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধহাজাজ ওসমান ও মধুমতি লেবানন গমন করে। যোগদানের পর থেকে জাহাজ দুটি লেবাননের ভূখ-ে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে লেবাননের জলসীমায় মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্র্যাফটের ওপর নজরদারি, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবাননি নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। লেবাননে অবস্থানকালে গত চার বছরে জাহাজ দুটিতে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর

১ হাজার ২৮০ জন সদস্য অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন।

যুদ্ধজাহাজ মধুমতির ক্যাপ্টেন শরিফুল ইসলাম জানান, যুদ্ধজাহাজ দুটি মেরিটাইম টাস্কফোর্সের আওতাধীন অন্যান্য দেশের জাহাজসমূহের সঙ্গে নিয়মিত সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে। যা বিশ্বের উন্নত দেশের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা লাভের পাশাপাশি জাহাজে অবস্থানরত কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গত চার বছর জাহাজ দুটি ভূমধ্যসাগরে নিরবচ্ছিন্নভাবে টহলদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, এ জাহাজ দুটি থেকে সরকার প্রায় ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৫২ হাজার ৯২৬ মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী দীর্ঘদিন অপারেশনাল কর্মকা- পরিচালনার পাশাপাশি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিগগিরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা ওসমান’-কে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করবেন বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আগত যুদ্ধজাহাজের নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম খান জানান, যুদ্ধজাহাজ ওসমান ও মধুমতি গত ১৫ জুন ২০১৪ তারিখ বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। এটি বাংলাদেশে আসতে প্রায় ৭ হাজার ন্যটিক্যাল মাইল সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটিতে মোট ৩২০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক রয়েছেন। এর আগে গত ১৩ জুন ওসমান ও মধুমতির প্রতিস্থাপক হিসেবে যুদ্ধজাহাজ আলী হায়দার ও নির্মূলকে লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত করা হয়।