পরিবহনের আধুনিকায়ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আসছে র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)

বদলে যাচ্ছে সময়। বদলে যাচ্ছে আমাদের শহর। বাড়ছে মানুষ এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নগরায়ন, কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি রাস্তাঘাট বা উন্নত হয়নি গণপরিবহন ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা, ফলশ্রুতিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হচ্ছে গাড়িতে, বাড়ছে পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন ধরনের জনদুর্ভোগ। যানজটে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়, নষ্ট হচ্ছে এদেশের মেহনতি মানুষের টাকায় আমদানি করা জ্বালানি তেল। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। যে কারণে প্রণয়ন করা হয়েছে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (ঝঞচ), যাতে রয়েছে ৩টি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (ইজঞ) এবং ৩টি মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (গজঞ বা গবঃৎড়)। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত ২২.৪ কি.মি. দীর্ঘ ইজঞ লাইন-৩ বাস্তবায়ন করা হবে। এই রুটে অধিক যাত্রী বহনে সক্ষম বাস চলবে নির্ধারিত লেনে, বাধাহীনভাবে।
ইজঞ লাইন-৩ সংযুক্ত হবে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য ইজঞ-এর সঙ্গে। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় গড়া এয়ারপোর্ট সড়ক ধরে কুড়িল ইন্টারচেঞ্জের নিচ দিয়ে ও বনানী রেল ওভারপাসের ওপর দিয়ে মহাখালী-সাতরাস্তা-মগবাজার-গুলিস্তান হয়ে ঝিলমিল (কেরানীগঞ্জ) পর্যন্ত যাত্রীসাধারণ এক অনবদ্য, দ্রুত, আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ উপভোগ করবেন। হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মহাখালী, মগবাজার, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, নয়াবাজার, বাবুবাজার ২য় বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত।
বর্তমানে এই রুটের বাস মালিক এবং অপারেটররা বিআরটি কোম্পানির সঙ্গে সুনির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে বিআরটি বাস পরিচালনা করতে পারবেন। বিআরটি বাস্তবায়নের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বিআরটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণ পরিচিত হবে এক নতুন সমৃদ্ধ পরিবহন সংস্কৃতির সঙ্গে। আধুনিক সুবিধা প্রদানের ফলে ভ্রমণ হবে আরামদায়ক, সময় বাঁচবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে কার্যকরী জ্বালানি প্রযুক্তির বাস ব্যবহারের ফলে হ্রাস পাবে পরিবেশ দূষণ। একুশ শতাব্দীর ঢাকা বিনির্মাণে তথা নগরকে আধুনিকায়নে এই উদ্যোগটি হয়ে উঠবে একটি মাইলফলক। বিআরটি বাস্তবায়নের পর আমরা একটি সুখী সমৃদ্ধ, যানজটমুক্ত এবং পরিবেশ সহায়ক ঢাকা নগরীর স্বপ্নীল বাস্তবায়ন দেখতে পাবো। বিজ্ঞপ্তি।