ঝিনুক ও মুক্তায় ভাগ্যবদল

পাবনার গাজনার বিল ও চলনবিলের সহস্রাধিক মানুষ ঝিনুকের মুক্তায় ভাগ্যবদল করতে পেরেছে। এ দুই বিল এলাকার ঝিনুক সংগ্রহকারীরা বছরে শতকোটি টাকার ঝিনুক ও মুক্তার ব্যবসা করে থাকে। এ শ্রমিকরা ঝিনুক শ্রমিক ও চুনকার নামে পরিচিত। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর জেলার বিশাল অঞ্চল নিয়ে চলনবিল এবং পাবনার সুজানগরে গাজনার বিল অবস্থিত। এ ঝিনুক থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ মুক্তা সংগ্রহ হয় তার দাম প্রায় ২০ কোটি টাকা। আর এ ঝিনুক থেকে তৈরি হয় মুরগি ও মাছের খাবার। এ থেকে পাওয়া যায় খাবার চুন। এখানকার চুন উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকে।

সরেজমিনে জানা যায়, চলনবিল ও গাজনার বিল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ঝিনুক সংগ্রহ করছে একশ্রেণীর পেশাজীবী শ্রমিক। তাদের পরনে চাকচিক্যময় পোশাক না থাকলেও এরা প্রতিদিন রোজগার করে কমপক্ষে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। কাকডাকা ভোর থেকে দলে দলে এরা ঝিনুক কুড়াতে আসে বিলে। বিরামহীনভাবে এদের কার্যক্রম চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে বস্তা বস্তা ঝিনুক আর অমূল্য সম্পদ মুক্তা নিয়ে।

প্রতিদিনের কুড়ানো ঝিনুক বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ থেকে মধ্যস্বত্বভোগীরা ট্রাক নিয়ে এসে পাইকারি কিনে নিয়ে যায়। এ ঝিনুক দিয়ে তৈরি হয় মুরগির খাবার, মাছের খাবার ও চুন। ঝিনুক সংগ্রহকারীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে প্রতি মণ ৫০-৬০ টাকায়। এক মণ ঝিনুক থেকে চুন তৈরি হয় ৩০ কেজি, যার প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রতিদিন একেক জন শ্রমিক ৫০ থেকে ৭৫ রতি মুক্তা সংগ্রহ করে থাকে কুড়ানো এসব ঝিনুক থেকে। অপরিশোধিত এসব মুক্তা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে প্রতি রতি ১০ টাকায়।

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর গুচ্চি গ্রামের ঝিনুকের মহাজন নিখিল কুমার সরকার সমকালকে জানায়, পাবনার আটঘরিয়া উপজেলাতেই ৪ শতাধিক শ্রমিক এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তার জানা মতে, পাবনা জেলায় এক হাজার শ্রমজীবী মানুষ ঝিনুক সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। এসব শ্রমিক প্রত্যেকেই ঝিনুক ও মুক্তা বিক্রি করে স্বাবলম্বী। তাদের মধ্যে অধিকাংশই বংশানুক্রমে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। আবার অনেকেই কোনো পুঁজি না থাকায় এ পেশা বেছে নিয়েছে।

ঝিনুক শ্রমিক রমেশ সরকার জানান, তারা সারা বছর ঝিনুক কুড়ায়, তা বিক্রি করে যে টাকা পায় তাতে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলে যায়। মুক্তা বিক্রির টাকা তাদের বাড়তি রোজগার। এ টাকা তারা জমাতে পারেন বাড়তি আয় হিসেবে।