রাজধানীতে আরো দুটি শিশু হাসপাতাল করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশে একটি করে আরো দুটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া স্নাতকোত্তর নার্সিং শিক্ষার জন্য একটি উচ্চতর ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি হাসপাতালে আরো ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী ব্রেস্ট ফিডিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা ও উৎসাহ প্রদানের জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মায়ের দুধ পান করা নবজাত শিশুর অধিকার। তিনি মাতৃদুগ্ধ (বিপণন নিয়ন্ত্রণ)-২০১৩ আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র কোরান শরিফের সূরা বাকারার ২৩৩ আয়াতে শিশুকে ২ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬ মাস পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই একমাত্র পরিপূর্ণ ও নিরাপদ খাবার। ব্রেস্ট ফিডিংয়ের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত ৫০ বছরে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন করে আরো ১০ হাজার নার্সের পদ সৃষ্টি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে নার্সের পদ রয়েছে ৫ হাজার। আরো ১০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্র্যাজুয়েট নার্সের ব্যবস্থা করেছি। আগে শুধু ডিপ্লোমা নার্স ছিল। আমাদের প্রতিটি জেলায় নার্সিং ইনস্টিটিউট করার লক্ষ্য আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নার্সদের বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণে পাঠাচ্ছি। তারা পিএইচডি ডিগ্রি করতে পারছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ৭ হাজার সরকারি ডাক্তার, সহকারী ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছি। সেখানে নার্সদের জন্য মাত্র ৫ হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলব, আরো ১০ হাজার নার্স নিয়োগের জন্য প্রস্তাব নিয়ে আসুন। এখানে ৫ হাজার থাকল। আরো ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দিতে হবে। ‘এতে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত লাগবে। কথায় বলে, অর্থই সব অনর্থের মূল। সেখানে গেলেই সমস্যা। সে সমস্যা হবে না, এটুকু আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যেই শিশুস্বাস্থ্যের বিষয়টি নিহিত রয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ যাতে সহজে চিকিৎসা সুবিধা পান, আমরা সে ব্যবস্থা করেছি। সারাদেশে প্রায় ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য কমপক্ষে একজন করে মোট ১৩ হাজার ২৫০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ২৯ ধরনের ওষুধ নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে ৬ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই গ্রামে গ্রামে চিকিৎসকরা কাজ করতে শুরু করবেন। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
৩৩তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের আজ ৭ আগস্ট সকাল ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। ওইদিন বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তাদের উদ্দেশে নীতিনির্ধারণী বক্তব্য রাখবেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন এম নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপর্সন ড. এসকে রায় ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. এম শাহনেওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।