মেহেরপুরে তৈরি মাটিররিং-এর কদর বাড়ছে

মেহেরপুরের তৈরি মাটির রিং সমাদৃত হচ্ছে ঐ অঞ্চলসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে। বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন গর্তে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাটির রিং-এর জুড়ি নেই। সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সিমেন্ট-বালির তৈরি রিংয়ের স্থান দখল করেছে মাটির রিং। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আমতৈল গ্রামে একসময় কয়েকটি কুমার পরিবারের লোকজন তৈরি করতেন মাটির তৈজসপত্র। কিন্তু এর চাহিদা কমে যাওয়ায় বছর চারেক আগে থেকে তারা রিং তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ওই গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার এখন রিং তৈরির সাথে জড়িত। একসময় যারা পাল বাড়িতে রিং তৈরির কাজে দিনমজুরি করতেন তাদের হাতেই এখন রিং তৈরির মূল ব্যবসা।
রিং তৈরির কারিগর জুবায়ের মিয়া জানান, আমতৈল গ্রামে ছোট-বড় মিলে রিং তৈরির ২৩টি খোলা রয়েছে। ইট তৈরির প্রক্রিয়াতেই রিং তৈরি হয়। প্রথমে মাটি-পানি মিশিয়ে কাদা বানানো হয়। এর পরে নির্ধারিত ছাচে রিং বানানো হয়। রোদে শুকিয়ে তা খোলায় পুড়িয়ে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।
রিং তৈরির কারিগর ও ব্যবহারকারীরা জানালেন, বর্তমানে শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়ির পানি নিষ্কাশন ও পায়খানার জন্য আলাদা গর্ত (হাউজ) তৈরি আবশ্যক হয়ে পড়েছে। বড় আকারের একটি গর্ত সিমেন্টের রিং দিয়ে বানাতে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। সেখানে মাটির রিংয়ের গর্ত তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। সিমেন্টে নোনা ধরে ৫/৬ বছর পরই রিং অকেজো হয়ে পড়ে। কিন্তু মাটির রিংয়ের স্থায়ীত্ব প্রায় ১শ বছর। তাই এখন বেশিরভাগ বাসা বাড়িতে সিমেন্টের রিং বাদ দিয়ে মাটির রিং দিয়ে গর্ত তৈরি হচ্ছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলাতেও বিক্রি হচ্ছে গাংনীর আমতৈল গ্রামের তৈরি মাটির রিং। আর এ ব্যবসায় জড়িত কয়েক শ’ মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
আমতৈল গ্রামের জুবায়েরের মাটির রিং তৈরির খোলায় গিয়ে কথা হয় জুবায়েরসহ কয়েকজন কারিগরের সাথে। তারা জানান, ব্যাপক চাহিদা থাকায় খোলা থেকেই নগদ টাকায় বিক্রি হচ্ছে রিং। কার্তিক মাস থেকে খোলায় উত্পাদন শুরু হয়ে চলে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত। সারা বছরের জন্য বাড়তি কিছু রিং তৈরি করে রাখেন তারা। অন্যের জমি ছয় মাসের জন্য লিজ নিয়ে খোলা চালু করেন তারা। আমতৈল গ্রামের ২৩টি খোলায় প্রতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে চার লাখ মাটির রিং তৈরি হয়।
বিভিন্ন খোলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি জোড়া রিং পাইকারি ৯০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে রিং তৈরির আশা করছেন এখানকার কারিগররা।