রেমিট্যান্সে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ জুলাইয়ে

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। স্বাধীনতার আগে বা পরে কখনোই এক মাসে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১২ সালের অক্টোবরে- ১৪৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।

গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের মাসিক সর্বোচ্চ ১৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত জুন মাসের তুলনায় ১৫.১৯ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৯.৬৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে স্বজনদের কাছে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন, যাতে তারা ভালোভাবে ঈদ করতে পারে। এ ছাড়া বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপও এতে অবদান রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

নাজনীন সুলতানা বলেন, কয়েক মাস আগে রেমিট্যান্স হঠাৎ করে কমে যাচ্ছিল। এর একটি কারণ, সৌদি আরবের প্রবাসীদের আকামা (পেশাগত কাগজ) পরিবর্তনের পেছনে ভালো একটি অঙ্ক ব্যয় করতে হয়েছে। এ ছাড়া ওই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছুটা অস্থিতিশীল ছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। আগামী কোরবানির ঈদের আগেও রেমিট্যান্সে এমন প্রবাহ দেখা যাবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘প্রবাসীরা যাতে দ্রুত রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন সে জন্য বিদেশের একচেঞ্জ হাউসগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গারের সকল আউটলেটের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তা ছাড়া রেমিট্যান্স বিতরণের সময়ও ৭২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে দুই কর্মদিবস করা হয়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা আগের থেকে অনেক সহজে এবং কম সময়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) রেমিট্যান্স বাবদ ৮৯৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার দেশে এসেছে। এই অর্থ গত বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় ৭.৭১ শতাংশ বেশি। ২০১৩ সালের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮২৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও (রিজার্ভ) কিছুটা বেড়েছে। সোমবার রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ১৪০ কোটি ডলার, যা দিয়ে প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।