নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২১%

যুক্তরাষ্ট্রের মত গতানুগতিক ও বড় বাজারে পোশাক রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়লেও নতুন বাজারগুলোতে রপ্তানি বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। এর উপর ভর করেই গেল ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিশ্ব বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। আর রপ্তানিতে ৮০ শতাংশ অবদান রাখা পোশাক খাতের উপর ভিত্তি করে গত অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইবিপি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গেল অর্থবছরে বিগত ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে এসব দেশে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৪৫ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগের অর্থবছরে (২০১২-১৩) পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। আর ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ শতাংশেরও বেশি।

চীন, জাপান, ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কোরিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ক বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য নতুন ও উদীয়মান বাজার হিসাবে বিবেচিত। এসব বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের সরকার ৩ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনাও দিয়ে থাকে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে নতুন বাজারে রপ্তানি অনেক বাড়বে। তারা বলেন, সামপ্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা না হলে নতুন বাজারে রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়ত। হরতাল-অবরোধের কারণে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশ সফর বাতিল করে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের পোশাকের অর্ডার দিয়েছেন। এছাড়া ভারত, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশে রয়েছে অশুল্ক বাধা। এসব দেশে নিয়মিত শুল্কের বাইরেও অন্যান্য অশুল্ক বাধার মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে।
নতুন বাজার হিসাবে ব্রাজিলে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে থাকেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় নতুন বাজার খুঁজতে হবে। বিদ্যমান নতুন বাজারগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। এ দায়িত্ব সরকারের। সব কাজ উদ্যোক্তা বা বিজিএমইএ একা করতে পারবে না। তিনি বলেন, বিজিএমইএ’র প্রতিনিধিদের সফরের পর ব্রাজিলসহ একাধিক দেশে দূতাবাস খুলেছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন তিনি।

নতুন বাজারে রপ্তানির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে গত অর্থবছরে ৬২ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল সাড়ে ৪১ কোটি ডলারের পোশাক পণ্য। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জাপান। দেশটিতে গত অর্থবছরে ৫৭ কোটি ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এর পূর্বের অর্থবছরে জাপানে প্রায় ৪৮ কোটি ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। অন্যদিকে গত অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩ কোটি ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এর আগের অর্থবছরও প্রায় একই পরিমাণ পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।
এর বাইরে গত অর্থবছরে ব্রাজিলে ১৭ কোটি, চিলিতে ৩ কোটি ৩০ লাখ, চীনে ২৪ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাড়ে ১৩ কোটি, মেক্সিকোতে সাড়ে ১২ কোটি, রাশিয়ায় সাড়ে ২০ কোটি, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ৫ কোটি এবং নতুন বাজারের অন্যান্য দেশে আরো ৯২ কোটি ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছে।