বিবিএসের জরিপ ॥ দেশে দারিদ্র্য কমে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ

দেশে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ৩০ জুন পর্যন্ত এক হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে চরম দারিদ্র্য হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশে।
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দারিদ্র্য নিরসনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এটি উঠে এসেছে হাউস হোল্ড ইনকাম এন্ড এক্সপেনডিজার সার্ভেতে (হেইজ)। এই জরিপে খানার আয়-ব্যয়, ভোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত খানার ভোগ ব্যয় তথ্য ভোক্তার মূল্যসূচক এর ওয়েট নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয় যা দেশের মূল্যস্ফীতি পরিমাপে সাহায্য করে এবং এ তথ্য ব্যয়ভিত্তিক মোট দেশজ উৎপাদন হিসেব নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সূত্র জানায়, হেইজ ২০০০ সালের জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালের জরিপে দেখা গেছে সেটি কমে দাঁড়িয়েছিল ৪০ শতাংশে। ২০১০ সালের জরিপের সেটি আরো কমে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে। অবশেষে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সেটি হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে চরম দারিদ্র্য-সীমার নিচে বসবাসকারীদের সংখ্যাও কমে এসছে। ২০০০ সাল থেকে ২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চরম দারিদ্র্যের হার হচ্ছে ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ২৫ দশমিক ১ শতাংশ, ১৭ দশমিক ৬ এবং ২০১৩-১৪ সালে প্রাথমিক ফলাফলে ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে হয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ১৯৭৩-৭৪ সাল হতে খানার ব্যয় নির্ধারণের জন্য একটি জরিপ চালিয়ে আসছিল। ২০০০ সালে এ জরিপের প্রশ্নপত্রে অনলাইন মডিউল বিশদভাবে সংযোজন করা হয়, ফলে ২০০০ সাল হতে এ জরিপ ‘হেইজ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এ পর্যন্ত ১৫ বার এ জরিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১০ সালে সর্বশেষ এ জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে অনিয়মিত হলেও এ জরিপ ১৯৯৫ সাল হতে ৫ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পরবর্তী হেইজ ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হবে।
হেইজ তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ও সমাদৃত। বিশ্বব্যাংক ১৯৯৫ সাল থেকে এ জরিপ পরিচালনায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করে আসছে। একই সঙ্গে তারা ১৯৯৫ সাল থেকে জরিপের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ প্রভার্টি এ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট প্রণয়ন ও প্রকাশ করে আসছে। ২০১০ সালের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক ২০১৩ সালের ২০ জুন এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।