মেসি, নেইমারদের জার্সি রফতানি করে আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলার

র্জেন্টিনার মেসি ও ব্রাজিলের নেইমাররা যেসব জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বকাপের মাঠ দাপিয়ে বেড়ান তা বাংলাদেশের তৈরি। বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দেশের প্রায় সব দেশই খেলোয়াড়দের জন্য বাংলাদেশ থেকে জার্সি তৈরি করে নিয়েছে। বিশ্বকাপের আসরে শুধু জার্সি রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৫০ কোটি ডলার। শুধু জার্সিই নয়, বিদায়ী অর্থবছরে পোশাক রফতানিতেও নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। এ খাতের রফতানি আয় ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ২০২১ সালের মধ্যে তা ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে মনে করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিশ্বকাপের আসরে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীর জন্য এ বছর অন্তত ৫০ কোটি ডলার মূল্যের জার্সি রফতানি করেছে বাংলাদেশ। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে জার্সি তৈরি করে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ বছর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা গতবারের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে; যার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বিশ্বকাপ ফুটবল? তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১০০ কারখানা বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলের ফ্যানদের জন্য জার্সি তৈরির কাজ করেছে? এসব কোম্পানি ঠিক কত টাকার কাজ করেছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য এ মুহূর্তে হাতে না থাকলেও এর পরিমাণ ৫০-১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে?

তিনি বলেন, গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় রেকর্ড ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার বেশি? এই আয়ের একটি বড় অংশ আসছে জার্সি, ট্র্যাকস্যুটসহ বিশ্বকাপকেন্দ্রিক বিভিন্ন ক্রীড়া পণ্য রফতানি করে। গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ চীনের তুলনায় অনেক সস্তায় মানসম্মত পোশাক দিতে পারছে বলেই বিদেশী ক্রেতাদের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশী কারখানাগুলো?

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, গত অর্থবছর মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন) খাত থেকে। এ দুই খাতের পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৪৪৯ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। এ রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। শুধু ওভেন পোশাক রফতানি থেকে গত ১২ মাসে দেশে এসেছে ১ হাজার ২৪৪ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার ও নিট পোশাক থেকে ১ হাজার ২০৪ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ সময় ওভেন পোশাকের রফতানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৭ ও নিট পোশাকের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প হচ্ছে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অর্থনৈতিক চালিকা শক্তিকে দৃঢ়ভাবে গড়ে তোলার জন্য পোশাক শিল্প মালিকদের ২৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পোশাক শিল্পে বর্তমানে রফতানি আয় ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে তা হবে ৩০ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, আমেরিকা জিএসপি স্থগিত করার পরও ওই দেশে পোশাক রফতানি বেড়েছে। আগামীতে এ শিল্পে বাংলাদেশ পৃথিবীতে এক নম্বরে ওঠে আসবে। ইতোমধ্যে চীন পোশাক শিল্প থেকে বিনিয়োগ ভারি শিল্পে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আগামীতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে পোশাক রফতানি করবে। ভিশন-২১ এর মধ্যে পোশাক রফতানি থেকে যাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার নাইকি, পুমা, আডিডাসের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে জার্সি তৈরি করিয়ে নিয়েছে? এসব জার্সি গায়ে দিয়েই বিশ্বের নানা প্রান্তে বসে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করবেন বিশ্বকাপে থাকা ৩২টি দেশের সমর্থকরা।

এ প্রসঙ্গে হাতেম আরও বলেন, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালের ফুটবল সমর্থকদের জন্য কেবল তার কারখানাতেই প্রায় আড়াই লাখ জার্সি তৈরি হয়েছে? এছাড়া ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলির ফুটবলপ্রেমীদের জার্সি তৈরির জন্য পুমার কাছ থেকে ৩০ লাখ ডলারের অর্ডার পেয়েছেন আরেক বাংলাদেশী গার্মেন্ট ব্যবসায়ী কেএম রেজাউল হাসানাত?

এছাড়া বাংলাদেশের ছোট ছোট অনেক কোম্পানি বিশ্বকাপের দেশগুলোর পাতাকা, ক্যাপসহ বিভিন্ন সামগ্রী রফতানি করেছে।
বাজার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি ॥ রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশের এ শিল্পে ভাগ বসাতে চলছে নানা ধরনের খেলা। প্রতিযোগী দেশগুলোর বাজার ধ্বংসের অপচেষ্টা, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কিছু এনজিওর অপতৎপরতা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর উস্কানির কারণেও এ শিল্প খাতে প্রায়ই অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে ফের এ শিল্পে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, কারখানায় যেকোন ধরনের শ্রম অসন্তোষ এড়াতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোপূর্বে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কোর কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা মহানগর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকার জন্য গঠিত পৃথক ৫টি আঞ্চলিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। এছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলে রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব, শিল্প পুলিশ, চার গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধি।