জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৯৭% ॥

০ এক বছরের গড় মূল্যস্ফীতি ৭.৩৫ শতাংশ 
০ খাদ্যপণ্যে কমে ৮% 
০ বিশ্বব্যাংকের প্রশংসা
 
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জনে সাফল্য লাভ করেছে সরকার। জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একই সময়ে কমেছে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও। তবে কিছুটা বেড়েছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি। অন্যদিকে গত এক বছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে, যা তার আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য ছিল ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা। এ লক্ষ্যের কাছাকাছি প্রায় অর্জন করে ফেলেছে সরকার। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মুদ্রানীতিসহ সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফসল হচ্ছে মূল্যস্ফীতি সাফল্য। এ জন্য সময় সময় বিভিন্ন কৌশল ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় জনজীবনে স্বস্তি ছিল। 
তবে মূল্যস্ফীতির বর্তমান স্থিতিশীলতার ধারা থেকে বেরিয়ে নিম্নমুখী প্রবণতায় নিয়ে আসতে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, গোটা বছরে মূল্যস্ফীতি মোটামুটি গড়ের আশেপাশেই ছিল। সাধারণভাবে বলা যায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট নয়। এ সময়ে আরও নিম্নমুখী হওয়া উচিত ছিল। এ কারণে সত্যিকারভাবে মূল্যস্ফীতিকে নিম্নমুখী বলা যাচ্ছে না। তবে সরকারের সাফল্য হচ্ছে এটি বাড়তে দেয়নি, একটি জায়গায় ধরে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার যে চেষ্টা তা সম্পূর্ণরূপে সফল হওয়া যায়নি। তাই চলতি বছর (২০১৪-১৫) যেহেতু মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা আরও কম ধরা হয়েছে সেহেতু তা অর্জন করতে শুধু মুদ্রানীতি টাইট করলে হবে না। এর সঙ্গে যুক্ত বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিভিন্ন বিষয় যেগুলো মূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। 
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর ধরে জাতীয়ভাবে জুন মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে আট দশমিক শূন্য শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল নয় দশমিক নয় শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।
পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল সাত দশমিক ২৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ৬৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল আট দশমিক ৭২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ১২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল চার দশমিক ৭১ শতাংশ।
শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ৪২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল সাত দশমিক ৯২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে আট দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল নয় দশমিক ৯৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল পাঁচ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
অবশ্য বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। বাজেটপরবর্তী সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, সার্বিক মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলেও সেটি স্থিতিশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি সঠিক অবস্থানে ছিল সেটি এখনও আছে, এটি ভাল। তবে মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে আনার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছিলেন তিনি। 
অন্যদিকে ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল আট দশমিক পাঁচ শতাংশ। গড় মূল্যস্ফীতির হিসাব করলে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। 
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সফল। বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এটি পয়েন্ট টু পয়েন্টে মূল্যস্ফীতি কমার একটি অন্যতম কারণ। তাছাড়া সরকারের সঠিক নীতির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পণ্য সরবরাহ চেন সঠিকভাবে কাজ করায় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে পণ্যের কোন সঙ্কট নেই। এটিও মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) জুন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৮৬ শতাংশ। পুরো হিসাব পেলে এটি আশা করছি ৯৬ শতাংশে দাঁড়াবে। তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী কল্যাণ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সড়ক বিভাগ শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।