‘মনে হয়েছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হয়েই ব্রিটেনে ফিরেছি’

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে তাকে বিদায় দেয়ার মুহূর্তটা এতটাই আন্তরিকতাপূর্ণ ছিল যে তার মনে হয়েছে যেন তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হয়েই ব্রিটেনে ফিরছেন। সম্প্রতি পেরুতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশে তার বোমা হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাটি ছিল দুঃখজনক। তবে সেই দুঃষহ স্মৃতিকে ছাপিয়ে তার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের ভালবাসা। 
পেরুতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসি) কর্তৃক আয়োজিত এক বিদায়ী সংবর্ধনা সভায় আনোয়ার চৌধুরী এভাবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে নিজের অভিমত তুলে ধরেন। বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের পামট্রি রেস্টুরেন্টে এ সবংর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আনোয়ার চৌধুরী ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ থেকে ফিরে তিনি ব্রিটিশ ফরেন অফিসে (এফসিও) আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তিনি এফসিও’র কাজের মানোন্নয়নে উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কাজে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘ইনস্টিটিউট অব গভার্নম্যান্ট পদক’ লাভ করেন। অতিসম্প্রতি আনোয়ার চৌধুরীকে পেরুর রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আগস্টের শেষ সপ্তাহে নতুন দায়িত্বে যোগ দিবেন বলে ইত্তেফাককে জানান তিনি। ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা এই কূটনীতিকের জন্ম সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাতপুরে।
আনোয়ার চৌধুরী বলেন, তার সময়ে বাংলাদেশের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে ছিল। ৬৩ জেলায় বোমা হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ঐ ঘটনার পর একজন মানুষ হিসেবে এবং একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে আমার মনে হয়েছিল এ অবস্থা চলতে পারে না। সে সময় আমি বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করে সব রকমের ব্রিটিশ সাহায্যের ব্যবস্থা করেছিলাম।’ এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের জন্য ব্রিটেনের সব ধরনের সহায়তা অব্যহত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐ নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হয়েছিল।
তিনি বলেন, পেরুতে তার প্রধান কাজ হবে ব্রিটিশ বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো। ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের তিনি পেরুতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। 
তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘ কিংবা অন্যকোনো দেশে যখন ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যান, তখন নিজেকে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি বেশি গর্ববোধ করেন। 
বিবিসিসি’র প্রেসিডেণ্ট মাহতাব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বিবিসি লন্ডন শাখার সভাপতি বশির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিবিসি’র ডিরেক্টর জেনারেল মুহিব চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডেণ্ট মুকিম আহমদ ও শাহগির বখত ফারুক, ডিরেক্টর এ আলী জ্যাকো, সাবরিনা হোসাইন, মনির আহমদ, হাফিজ আলম বকশ ও মুমতাজ খান প্রমুখ।