মত্স্য সম্পদ আহরণে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মত্স্য খাতে দেশের বিপুল সম্ভাবনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত রায় বাংলাদেশের জন্য সাগর থেকে মত্স্য সম্পদ আহরণের ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ-২০১৪ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গভবনে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের ব্যাপক জলরাশি রয়েছে, রয়েছে বদ্ধ জলাশয়, নদী, খাল, হাওর, বাঁওড় ও বঙ্গোপসাগর। আজ (গতকাল) আমরা সাগরে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা লাভ করেছি এবং তা আমাদের জন্য প্রচুর মত্স্য সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং মত্স্য সপ্তাহ উপলক্ষে পুকুর, হাওর, বাঁওড়সহ সব জলাশয়ে মাছ ছাড়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশেরও বেশি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মত্স্য খাতের সঙ্গে জড়িত এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ মত্স্য খাত থেকে আসে। রাষ্ট্রপতি বলেন, মত্স্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মত্স্য খাতকে সহায়ক খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তিনি মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ও অপরাপর উদ্যোক্তাদের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ এবং দেশের বিশাল জলজ সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু সরকারেরই দায়িত্ব নয়। মত্স্য চাষ বৃদ্ধি ও বিস্তৃত জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও বাণিজ্যিক তথা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট করে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করাও প্রয়োজন।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি হাওর এলাকা থেকে এসেছি… শৈশব থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিকভাবে উত্পন্ন মাছের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। কিন্তু অতীতের তুলনায় বর্তমানে হাওরে মত্স্য উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, উপরন্তু বহু প্রজাতির দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আশার কথা দেশীয় প্রজাতির মাছের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।