পদ্মা সেতুর জেরে গতি ফিরছে চার লেনের দুই প্রকল্পে!

ঝুলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের কাজে হঠাৎ করে গতি ফিরছে। এত দিন ঢিমেতালে চললেও পদ্মা সেতুর কাজ পাওয়ায় এবং কাজ পেতে আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর দুই চীনা প্রতিষ্ঠান কাজে গতি ফিরিয়ে আনছে। দুই প্রতিষ্ঠানের একটি চায়না মেজর ব্রিজ কন্সট্রাকশন কম্পানি লিমিটেড, অন্যটি সিনো হাইড্রো।

চায়না মেজর ব্রিজ পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কাজ পেয়েছে। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের চারটি অংশের মধ্যে মাওনা থেকে ত্রিশালের রায়মণি পর্যন্ত অংশের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সিনো হাইড্রো ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের ১০টির মধ্যে সাতটি অংশের কাজ করছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী শাসনের কাজ পেতে আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এখন প্রতিষ্ঠান দুটিকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চাপ দিচ্ছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। চীনা সরকারের কাছেও এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যমান প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দুই লেন মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ২০১০ সালের ১ জুলাই জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগু নেওয়া হয়। আগামী বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। প্রকল্পের চারটি অংশের মধ্যে দুটি অংশ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাকি দুটি বাস্তবায়ন করছে সওজ অধিদপ্তর। সওজ অধিদপ্তরের অধীন দুটি অংশের মধ্যে মাওনা থেকে ত্রিশালের রায়মণি পর্যন্ত অংশের কাজ পেয়েছিল চায়না মেজর ব্রিজ। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরাসরি মাঠে উপস্থিত না থেকে তিন বছর স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে কাজ করায়। এ অংশে কাজের অগ্রগতি শতকরা ৪২ ভাগ। মাঠে উপস্থিত হয়ে কাজ করানোর জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে ১২ বার চিঠি দিয়েছিল সওজ অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ে কাজ না করলে চুক্তি বাতিল ও জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিলে চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠে এসে কাজ তদারকি শুরু করেন। এখন পদ্মা সেতুর কাজ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি চার লেন প্রকল্পের কাজেও গতি ফেরাচ্ছে।

সওজ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, মাওনা থেকে ত্রিশালের রায়মণি পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার অংশে চায়না মেজর ব্রিজের সঙ্গে কাজ পায় বাংলাদেশের প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড (পিবিএল)। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে এ কাজের চুক্তি হয়েছিল। প্রকল্পে রায়মণি থেকে ময়মনসিংহ অংশে কাজ করছে মেটালজিক্যাল কনস্ট্রাকশন কম্পানি অব চায়না, তমা কন্সট্রাকশন লিমিটেড ও শামীম এন্টারপ্রাইজ।

জয়দেবপুর থেকে মাওনা পর্যন্ত ৩০ দশমিক ২৫ কিলোমিটারের কাজ মামলার কারণে দুই বছর বন্ধ ছিল। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে এই অংশের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই অংশে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পে ১০টি অংশ আছে। সাতটি অংশের কাজ করছে সিনো হাইড্রো। এ পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৪৬ শতাংশ। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এ চার লেনের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একই সময়ে সিনো হাইড্রো মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ করতে পেরেছিল। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাজে গতির আনার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বারবার চাপও দেওয়া হয়েছিল সিনো হাইড্রোকে।

সিনো হাইড্রোর বাংলাদেশ কার্যালয়ের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক লিও লিবিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদী শাসনের কাজ আমাদের প্রতিষ্ঠান পেতে পারে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পে আমাদের সাতটি অংশে এখন ৬৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। আমরা কাজ করছি।’

চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা মি. ঝু মুঠোফোনে আলাপকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, মাওনা-ত্রিশাল অংশে এখন কাজের অগ্রগতি শতকরা ৪৫ ভাগ। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আমাদের কম্পানির কর্মকর্তাদের দ্রুত কাজের তাগিদ দিয়েছিল।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের মাওনা থেকে ত্রিশালের রায়মণি অংশে কাজ পেয়েছিল চায়না মেজর ব্রিজ। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখতে পেলাম, কাজ শুরু হয়নি। এরপর দেখা গেল, মূল ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠে থাকছেন না। এ কারণে কাজে গতি ছিল না। এ অবস্থায় আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি জানাই। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসেও আমাদের কথা হয়েছে। একপর্যায়ে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, কাজে গতি ফিরবে, কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। পদ্মা সেতুর কাজ পাওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা চার লেনের কাজে গতি বাড়িয়েছেন।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2014/06/22/98995#sthash.oVizOuLw.dpuf