বিদ্যুত সঞ্চালন-বিতরণ উন্নয়নে ৪৮শ’ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক: আজ চুক্তি সই

একক প্রকল্পে সর্বোচ্চ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সহজ শর্তে এ সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমাতে বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে এ টাকা ব্যয় করা হবে। এ ঋণের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (৬০ কোটি মার্কিন ডলার)। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সমম্মেল কক্ষে অনুষ্ঠেয় অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহান্সে জাট চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান জনকণ্ঠকে বলেন, সহজ শর্তে বিশ্বব্যাংক এ ঋণ দিচ্ছে। এ টাকা দিয়ে বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন যে হারে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ছে সে অনুযায়ী সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন বাড়ছে না। পুরনো লাইনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বছর বছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত নষ্ট হচ্ছে সিস্টেম লসের কারণে। এ অবস্থায় বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক একক প্রকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ অর্থায়ন করছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলছে এটি পদ্মা সেতুর পরই একক প্রকল্পে সর্বোচ্চ অর্থায়ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনেতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল ও বিজিসিপির নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বিশ্বব্যাংকের দেয়া মোট ঋণের মধ্যে বিজিসিপি ব্যয় করবে মোট ৮৪৮ কোটি টাকা। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ব্যয় করবে প্রায় ৩ হাজার ৮৮০ কোটি এবং বাকি ৭২ কোটি টাকা কারিগরি সহায়তা হিসেবে ব্যয় করা হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমার পাশাপাশি নতুন গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছে দেয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহজ শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর সুদের হার শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছরে বাংলাদেশকে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সূত্র জানায়, আরইবির ৬ লাখ ৪১ হাজার ৫৬৫টি ট্রান্সফরমারের মধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১১টি ট্রান্সফরমার ওভারলোডেড। এসব ওভারলোডেড ট্রান্সফরমারগুলোর কারণে বিদ্যুত সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। ওভারলোডেড (ক্ষমতার চেয়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়া) হওয়ার কারণে এসব ট্রান্সফরমার জ্বলে যাওয়া, লাইন পুড়ে ও ছিঁড়ে যাওয়াসহ উপকেন্দ্র বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
বর্তমানে দুই লাখ ৪৮ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইনের মাধ্যমে নয় দশমিক ৭০ মিলিয়ন গ্রাহককে বিদ্যুত সরবরাহ করছে আরইবি। দেশের সব থেকে বড় এই বিদ্যুত বিতরণ বোর্ডে ৭১টি পল্লী বিদ্যুত সমিতি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের পুরনো লাইন, সাবস্টেশন এবং ওয়ারলোডেড ট্রান্সফরমারের বিতরণ ব্যবস্থায় প্রায়ই ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুত থাকার পরও বিতরণ ব্যবস্থায় বিঘœ ঘটায় আরইবির গ্রাহকরা লো-ভেল্টেজ এবং ঘন ঘন বিদ্যুত বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে সরকার এখন পল্লী এলাকার বিদ্যুত সরবরাহ উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় ছয় হাজার ১৫০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৩৩ কেভি (৪৭৭ এমসিএম) নতুন লাইন নির্মাণ করা হবে দুই হাজার ২০৭ কিলোমিটার, একই ক্ষমতার ডাবল সার্কিট লাইন নির্মাণ করা হবে ১০৬ কিলোমিটার, ৩৩ কেভি (৬৩৬ এমসিএম) লাইন নির্মাণ হবে ৩৪০ কিলোমিটার, ৩৩ কোভি লাইন আপগ্রেডেশন হবে ৮৬৩ কিলোমিটার। এ ছাড়া দুই হাজার ৬৩৪ কিলোমিটার ১১ কেভি লাইন নির্মাণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্পে রয়েছে। প্রকল্পর অধীনে ১১০টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় পিজিসিবি নতুন ২৩০/১৩২ কেভি ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করবে। এর আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি ৮৪ কিলোমিটার আরও একটি নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অধিক গ্রাহক সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ৩৮টি পল্লী বিদ্যুত সমিতির ভৌগোিলক এলাকায় বিদ্যমান বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতকরণ ও ক্ষমতাবর্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সুত্র