৭৩ লাখ টন অতিরিক্ত বোরো-আমন ধান উৎপাদন সম্ভব

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে বোরো ও আমন মৌসুমে প্রায় ৭৩ লাখ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন সম্ভব। তিন বছর মেয়াদে ‘ধান ফসলের ফলন পার্থক্য কমানো’ প্রকল্পের (ব্রি অংগ) মাধ্যমে গবেষণা চালিয়ে এ ফলাফল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর ব্রি মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরেন গবেষক ড. হুমায়ন কবির।
প্রকল্প সমন্বয়ক ও গবেষক হুমায়ন কবির বাংলানিউজকে বলেন, এখনও অধিকাংশ কৃষকই সেই প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের চাষাবাদ করেন।  তারা যদি আধুনিক পদ্ধতি ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদ করেন ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, এর ফলে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে দেশে ধানের মোট উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, সারাদেশে আমন ও বোরো ধানের ওপর মোট ২৫টি জেলার ৭৫ উপজেলায় তিন বছর মেয়াদে ওই প্রকল্পের অধীনে গবেষণা কাযক্রম পরিচালিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষকদের নিজস্ব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও গবেষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চাষাবাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে আমন ধানে ২০১১ মৌসুমে শতকরা ২৬ ভাগ, ২০১২ মৌসুমে শতকরা ১৬ ভাগ ও ২০১৩ মৌসুমে শতকরা ১১ ভাগ পার্থক্য পাওয়া গেছে।
আর বোরো ধানে পার্থক্য পাওয়া গেছে ২০১১-১২ মৌসুমে শতকরা ১৫ ভাগ, ২০১২-১৩ মৌসুমে শতকরা ১১ ভাগ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে শতকরা ১০ ভাগ।
ব্রি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মধ্য প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে আগ্রহ বৃদ্ধি কাযক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে আমন মৌসুমে শতকরা ১৫ ভাগ এবং বোরো মৌসুমে শতকরা ৫ ভাগ ফলন পার্থক্য কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সব এলাকা মিলিয়ে এভাবে বাড়তি ২৮ লাখ টন ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে।
আর সারাদেশে এভাবে ফলন পার্থক্য সফলতার সাথে কমানো সম্ভব হলে আমন ও বোরো মৌসুমে প্রায় ৭৩ লাখ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলেও গবেষণার তথ্য অনুসারে জানানো হয়।
গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়, কৃষকের দুই বিঘা জমি নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে। এতে এক বিঘা জমি কৃষকের তত্ত্বাবধানে আর অপর বিঘা ব্রি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
ব্রি ব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে মৌসুম ভিত্তিক উচ্চফলন সম্পূর্ণ ধানের জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে বীজ বপন, সঠিক বয়সে চারা রোপণ, সুষম সার ও পানি ব্যবস্থাপনা, সঠিক সময়ে আগাছা দমন, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন, সঠিক সময়ে ফসল কাটা ইত্যাদির সমন্বয়।
এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক। আর এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রি এর মহাপরিচালক ড. জীবন কৃঞ্চ বিশ্বাষ।