অটিস্টিকদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল : পুতুল

অটিস্টিকদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে শেখ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘উইমেন রিফিউজি কমিশন’ আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ‘গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের’ জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিস্টিক শিশুদের কেউ এখন আর অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে না।
এর আগে ‘ক্রাইসিস, কনফ্লিক্ট অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি : এনসিউরিং ইক্যুয়ালিটি’ শীর্ষক নামক গবেষণামূলক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন পুতুল।
গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড এনাবলের’ গবেষণা পরিচালক ড. ভ্যালেরি কার এবং ডেভিড মিশেল।
সায়মা হোসেন পুতুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশে অটিস্টিকদের পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ৩০০ এনজিও মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, অক্ষমদের জন্য সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে।’
পুতুল জানান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য শিশু অভিভাবক হারিয়েছে। অসংখ্য মানুষ গৃহহারা হয়। এর মধ্যে অক্ষম মানুষের সংখ্যাও ছিল অনেক। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে এসব অসহায় মানুষদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হলেও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পুনর্বাসনের সব কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে।
ভ্যালেরি কারের সঞ্চালনে আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন উইমেন রিফিউজি কমিশনের গবেষক এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা ডেল বুশার।
অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা)-এর পরিচালক এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক উপদেষ্টা মার্সি রোথ, কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জ্যানেট নিজেলসানি এবং রিটসুমিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাগাসি ওসামো।
বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান, নিউ ইয়র্কের সমাজকর্মী সেলিনা মোমেন, জাকারিয়া চৌধুরী, ডেমক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটির সদস্য খোরশেদ খন্দকারসহ জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।