আইএমএফের মূল্যায়নঃ বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও ভালো হবে বলেও আইএমএফ আশা প্রকাশ করেছে। আইএমএফ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাওয়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আইএমএফের বাংলাদেশে তিন বছর মেয়াদি ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) কর্মসূচির ওপর মঙ্গলবার প্রকাশিত চতুর্থ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস ব্যক্ত করা হয়। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে আইএমএফ এই মন্তব্য করলো— যখন মাত্র দুদিন পরই জাতীয় সংসদে দেশটির আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বিদায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিকে আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হলেও প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ ভাগ অর্জিত হয়েছে।
আইএমএফ মনে করে, গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক থাকায় অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতি পূরণ হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোই বলে দিচ্ছে— আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ২৫ ভাগ।
আইএমএফ দেশটির অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ওপর এক মন্তব্যে বলেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে রফতানি কিছুটা স্থিমিত হলেও সামপ্রতিক সময়ে আরও হ্রাস পেয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে আমদানিও হ্রাস পেয়েছে। তবে এখন আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থবছর ১৪-এর প্রথমার্ধে অধিকাংশ দেশে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা হ্রাস পায়। তবে অর্থবছর ১৩-এর প্রথমার্ধের চেয়ে অর্থবছর ১৪-এর প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ ভাগ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টাকা ও ডলারের বিনিময় মূল্য স্থিতিশীল থাকায় রিজার্ভ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থবছর ১৪-এর শেষ দিকে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।