বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে অটিজম চিকিৎসায় সাফল্য

অটিজমের জন্য দায়ী জিনসমূহের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের ধরন চিহ্নিত করার কাজে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী৷ এতে অটিজমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা৷ 

২৫ মে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার জেনেটিকস-এ এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে৷ ১৫ জন বিজ্ঞানীর লেখা এ নিবন্ধের মুখ্য লেখক (লিড অথর) বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উদ্দিন৷ তিনি বর্তমানে কানাডার টরন্টো শহরে অবস্থিত দ্য হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন-এর সেন্টার ফর অ্যাপ্লায়েড জেনোমিকস-এ ডক্টরেট-পরবর্তী ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল থেকে কলেজের পাট চুকিয়ে কানাডায় চলে যান৷ সেখানে তিনি মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন৷ 
অটিজমের জন্য দায়ী জিনসমূহের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের ধরন চিহ্নিত করার পদ্ধতিটি এরই মধ্যে মোহাম্মদ উদ্দিন ও তাঁর গবেষণা তত্ত্বাবধানকারী বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. স্টিফেন স্কেরারের নামে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পেটেন্ট হয়েছে। 
অটিজম একটি মানসিক বিকাশগত সমস্যা৷ এ সমস্যার জন্য শিশুর সামাজিক বিকাশ ও সামাজিক যোগাযোগ, যেমন কথা বলা, ভাব বিনিময় করার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়৷ বিশ্বে প্রতি ৬৮টি শিশুর মধ্যে একজন অটিস্টিক বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার নামের জটিল জেনেটিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ছেলের চেয়ে মেয়ের সংখ্যা চার গুণ বেশি। অটিজম একটি জিনঘটিত রোগ হলেও এটি উত্তরাধিকার সূত্রে মা-বাবার জিন থেকে সরাসরি সন্তানের শরীরে প্রবাহিত হয় না। জিনের পরিবর্তন, যা মিউটেশন নামে পরিচিত, সেটি নতুন এটাই কেবল বলা যায়। কারণ এই মিউটেশন মা-বাবার ডিএনএতে থাকে না। দেখা যায় প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর মিউটেশন ভিন্ন বা স্বতন্ত্র। এ কারণে অটিজম একটি জোরালো ধাঁধা হিসেবেই পরিচিত। 
মোহাম্মদ উদ্দিনের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা নিবন্ধটিতে দেখিয়েছেন, মিউটেশনগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও সেগুলো একটি সুনির্দিষ্ট রীতি মেনে চলে। নতুন প্রযুক্তি দিয়ে এখন সম্পূর্ণ জিন-নকশা (জেনোম সিকোয়েন্স) বের করে অটিস্টিক শিশুদের মিউটেশন বের করা যায়। এ কাজটিই তাঁরা করেছেন বলে টেলিফোনে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন মোহাম্মদ উদ্দিন। তিনি জানান, তাঁদের কাজটিতে তাঁরা মানুষের মস্তিষ্কের জিনের মধ্যে এক্সন (একটি বিশেষ উদ্দীপনা)-এর লেভেল বিশ্লেষণ করেছেন। 
দেখা গেছে, গর্ভকালীন নতুন মিউট্যান্ট জিন (মিউটেশনের ফলে পরির্তিত জিন) মস্তিষ্কের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, যা পরবর্তী সময়ে শিশুর মধ্যে প্রকাশিত হয় অটিজম আকারে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, অটিস্টিক শিশুদের সব ধরনের মিউটেশনের বেলায় একই রীতি দেখা যায়। কিন্তু কিছু শিশুর শরীরে এই পরিবর্তিত জিন থাকলেও তা প্রকাশিত নয়, তাদের বেলায় এই রীতিটি দেখা যায় না।
মোহাম্মদ উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, বর্তমানে একই তত্ত্ব সিজোফ্রেনিয়া ও অন্যান্য স্নায়ুতন্ত্রঘটিত রোগের বেলায় প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন।