ব্যাটারি দিয়ে চলবে মুন্নার অটো বাইসাইকেল!

রিকশার পাশাপাশি এবার ব্যাটারি দিয়ে চলবে বাইসাইকেল। ব্যাটারিতে বাইসাইকেল চালানোর ঘটনায় রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন কলেজ পড়ুয়া মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না। স্বল্প ব্যয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় সফলভাবে সম্পন্ন করলেন এ আবিষ্কার। জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড হতে পুরনো মোটর এবং ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি কিনে সহজভাবে এটি তৈরির কাজ সম্পন্ন করেন। পরীক্ষামূলকভাবে ২০ দিন ধরে চালিয়ে আসছেন। ঘণ্টায় ৪০-৫০কি মি বেগে চলে এই ব্যাটারিচালিত বাইসাইকেল। তেল-গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে না, যেকোনো মোবাইল ফোনের চার্জার দিয়ে আট ঘণ্টা চার্জ করে নিলেই চলে। একবারের চার্জে অনায়াসে একদিন চলাচল করতে পারে যানটি।

মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না জানান, তাঁর পুরনো একটি বাইসাইকেলকে ব্যাটারিচালিত যানে রূপান্তরিত করা হয়। স্বল্প সময়ে দ্রুত কর্মস্থলে আসা-যাওয়া এবং দৈনন্দিন ব্যয় কমানোর চিন্তায় এ আবিষ্কার করেন তিনি। এতে করে স্বল্প আয়ের লোকেরা কম খরচে ব্যাটারি চালিত এই বাইসাইকেলটি ব্যবহার করতে পারবে। এক সাথে দুজন বহন করা ক্ষমতা সম্পন্ন এ বাইসাইকেলটি পাহাড়ি পথেও চলাচল করতে পারবে। সাইকেলটির দুই হাতে ব্রেক, ডানহাতে অটো গিয়ার ও স্কেলেটর রয়েছে। দেখতে বেশ আর্কষণীয়। হালকা স্টিলের পাত দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে চেইন ও হেন্ডেল। একই সঙ্গে তার উপর পা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুন্না ব্যাটারি চালিত বাইসাইকেল’।

সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির ছাত্র মুন্নার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের পেশকারপাড়ায়। বাবা মো.তাজুল ইসলাম একজন পেশাদার মত্স্য চাষি। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি মত্স খামারেও কাজ করে আসছেন বাবার সঙ্গে। এ তরুণ ৯ম শ্রেণীতে পড়াকালেও নিজের প্রচেষ্টায় আরো দুটি ব্যতিক্রম ও বিস্ময়কর যন্ত্র আবিষ্কার করেন বলে দাবি করেন। মুন্না আরো জানান, মোবাইল ফোন দিয়ে লাখ লাখ কি. মি .দূর থেকে নির্দিষ্ট যন্ত্র চালু কিংবা বন্ধ করার যন্ত্রটিও আবিষ্কার করেন তিনি। তাঁর অপর আবিষ্কারটি হলো অটোভাবে পানি উত্তোলনের যন্ত্র। তবে এ পর্যন্ত সরকারি কোনো পৃষ্টপোষকতা পাননি তিনি। – See more at: http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2014/05/06/81021#sthash.fvpbgCPG.dpuf