এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অবস্থা, দারিদ্র্য দূরীকরণ ইত্যাদি সামাজিক খাতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এ অগ্রগতিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ‘ঈর্ষণীয়’ বলে বর্ণনা করেন। তবে বিশ্বায়নের এই যুগে এটা নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; বরং এসব মৌলিক ক্ষেত্রের অগ্রগতি জাতিগঠনের জন্য যে বনিয়াদ রচনা করেছে, তার ওপর একটি সুখী, সমৃদ্ধ, অগ্রসর জাতি হিসেবে দাঁড়াতে হলে আমাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক নবুকো হরিবে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে এমন কথাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলেন। বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনমান উন্নত হয়েছে, এ কথা আমরা পরিসংখ্যান থেকে জানি। শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমেছে। কিন্তু এখনো প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সহযোগিতায় সন্তান প্রসবের হার বেশ কম। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার প্রায় সমান হয়েছে, কিন্তু মেয়েশিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার এখনো অনেক বেশি। এসব ক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ, বিশেষত জাপান কিংবা থাইল্যান্ডের পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে হলে আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। জীবনমান ও গড় আয়ু বাড়ার ফলে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা যে ভবিষ্যতে একটি সমস্যা হিসেবে আমাদের সামনে আসবে, এ বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নবুকো হরিবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই।
আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। কিন্তু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। নবুকো হরিবে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে বলেছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে মানুষকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়গুলো ২০১৫ সালের পরেও বাংলাদেশের সামনে থাকবে। আমরা বরং এই ক্ষেত্রটিতে আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। কারণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ভবিষ্যতে মানবাধিকার থেকে শুরু করে সুশাসন, পরিবেশ সুরক্ষা থেকে শুরু করে সব রকমের সামাজিক সেবা খাতের অগ্রগতি বিঘ্নিত করতে পারে।