এবারের বাজেট রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ

পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বিবেচনায় রেখে আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করেছে সরকার। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে এ বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া। এ লক্ষ্যে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার আগামী বাজেটে বিনিয়োগ, বেসরকারী খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনা, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বাড়ানো পাঁচটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর সরকার যা যা করবে, তার একটি ছাপ থাকবে নতুন বাজেটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
সূত্র মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী বাজেটে কমানো হবে ব্যাংক সুদ। আর তাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে জন্য ব্যাংক, বীমা ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্পোরেট কর হার কমানো হচ্ছে। পাঁচ বছরে বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আসছে বাজেটে এটাকে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে তেমন অবদান না রাখায় মোবাইল ফোন ও বিড়ি সিগারেট খাতের ওপর বাজেটে কর্পোরেট কর হার বাড়ানো হচ্ছে। টাকা পাচার ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে। অবকাঠামো উন্নয়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, বিদ্যুত খাত উন্নœয়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়টিকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ১শ’ কোটি টাকা। মধ্যবিত্তদের জন্য সুখবর হচ্ছে ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হবে।
দারিদ্র্যবিমোচন ও দরিদ্র মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে গঠন করা হবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। এ ব্যাংকের জন্য বাজেট বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জমির স্বল্পতা থাকায় আসছে বাজেটে ৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে। ৭টি বিভাগীয় শহরের জন্য ঘোষণা করা হবে জেলা বাজেট। এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার। তবে জেলা বাজেটের জন্য এবার কোন বরাদ্দ থাকছে না। বরাদ্দ দেয়া হবে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে। এ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আসছে বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় আগামী বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জনকণ্ঠকে জানান, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ, বেসরকারী খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনা, এফডিআই, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর সরকার যা যা করবে তার একটি পরিপূর্ণ ছাপ থাকবে নতুন বাজেটে। এ জন্য এই বাজেট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে, বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে শ্লথগতি। গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশ। এ ব্যাপারে একটি বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, এটা খুবই কম। এটাকে ৩২ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এটা অর্জন করা খুব কষ্টকর, কিন্তু এটা করতেই হবে। আগামী বাজেটে এ সব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী ৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন। এবারের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর এটি হবে দেশের ৪৩তম এবং আওয়ামী লীগ সরকার উত্থাপিত ১৫তম বাজেট। ইতোমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) ৮৬ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ১৮৭টি প্রকল্পে ৭৯ হাজার ৩১ কোটি টাকার এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও আগামী এডিপিতে মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা ছিল ৮৯ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে তা কমানো হয়েছে, টাকার অঙ্কে যা চলতি অর্থবছরের এডিপির চেয়ে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা বেশি। যেখানে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বাকি ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির সুবিধার্থে নতুন এডিপিতে ২৭৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেবল বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নিশ্চিত হলেই এ সব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে।

অবশেষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে
বাজেট সামনে রেখে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। অর্থমন্ত্রী এ সুযোগ দেয়ার বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিলেও টাকা পাচাররোধ এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়াতে অবশেষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে আবাসন, জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসায়ীরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ ব্যাপারে দেন দরবার চালিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে প্রধানমন্ত্রীকেও অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। মূলত ব্যবসায়ীদের চাপের কারণে সরকার এই দাবি মেনে নিচ্ছে। সম্প্রতি প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার আভাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ২৬ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের দিকটিও সরকারকে দেখতে হবে।
তবে চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশে ১৯(ই) নামে একটি নতুন ধারা সংযোজন করে অপ্রদর্শিত আয় ঘোষণা দেয়ার স্থায়ী সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল। অপ্রদর্শিত অর্থ সব সময় যাতে প্রদর্শন করা যায়, সে উদ্দেশ্যেই জরিমানার বিধান রেখে আয়কর অধ্যাদেশে ১৯(ই) নামে একটি স্থায়ী ধারা সংযোজন করা হয়। এই ধারা সংযোজনের ফলে এখন স্বপ্রণোদিত হয়েই এ সুযোগ নিতে পারেন যে কোন করদাতা। অতীতের যে কোন বছরের আয় গোপন করা হয়ে থাকলে তা প্রদর্শন করা যায়। অতীতের যে বছরে ওই আয় করা হয়েছিল, ওই বছরের আয়ের ওপর তাকে বিদ্যমান কর হার অনুযায়ী কর দিতে হবে। এর সঙ্গে গোপনকৃত আয়ের ওপর প্রযোজ্য আয়করের ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত জরিমানা প্রদান করতে হয়। সংযোজিত নতুন ধারায় পুরনো একাধিক বছরের অপ্রদর্শিত বৈধ অর্থ প্রদর্শনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
আসছে অর্থবছর থেকে বাড়ির মালিকদের আয়কর বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বাড়ির মালিকদের আয়কর বিবরণী পরীক্ষা করবে এনবিআর। যদি আয়কর বিবরণীর সঙ্গে করদাতার আয়ের মিল না থাকে তাহলে আয়কর কর্মকর্তা আয়কর নির্ধারণ করবেন। রাজস্ব বাড়াতে এর পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমে বাড়িভাড়া পরিশোধের নিয়ম করা হচ্ছে। এছাড়া স্বর্ণ পাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সোনার ওপরও শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা আসছে বাজেটে।

ঢালাওভাবে নয় ব্যাংকের সুদ কমাতে কর্পোরেট কর কমানো হচ্ছে
বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের সুদ কমানো হবে। এ জন্য ঢালাওভাবে নয়, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর কমানো হবে নতুন বাজেটে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে কর্পোরেট করের হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি করের হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ কর্পোরেট মালিকরা চাচ্ছেন কর্পোরেটের সবস্তরেই গড়ে কমপক্ষে পাঁচ থেকে আড়াই শতাংশ করে কমানো হোক। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের স্বার্থেই এটা করতে হবে। কিন্তু এনবিআর বলছে, সব খাতে কর হার কমালে আয়কর আদায়ে ধস নামবে। বর্তমানে আয়কর লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি আদায় হয় কর্পোরেট খাত থেকে। মোট কর্পোরেট করের সিংহভাগ বা ৪০ শতাংশ আসে আবার ব্যাংক বীমা থেকে। আরেকটি বড় অংশ আসে মোবাইল, লিস্টেট কোম্পানি থেকে। এ সব খাতের কর হার কমালে রাজস্ব আদায়ে বড় ঝুঁকির সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে ৮ ধরনের কর্পোরেট কর কার্যকর আছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ কর আছে নন-পাবলিকলি ট্রেডেড সেলফোন কোম্পানির ওপর ৪৫ শতাংশ। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর হার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। এনবিআরের ওপর চাপ আছে এ দুটির ক্ষেত্রে কর হার ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনতে। একই সঙ্গে পাবলিকলি ট্রেডেড সেলফোন কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার চেষ্টা চলছে। এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেছেন, নতুন অর্থবছর থেকে কর্পোরেট ট্যাক্স কমছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের সমপর্যায়ে কর্পোরেট ট্যাক্স হার নামিয়ে আনা হবে- এমন ঘোষণাও তিনি দিয়েছেন। তবে তাঁর এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ জনকণ্ঠকে বলেন, কর্পোরেট কর হার কমানো ঠিক নয়। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও বিড়ি সিগারেটের খাতের বিনিয়োগ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান নেই।
ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষণের শিকার। এ জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এবার অন্যান্য করের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কর নামে বিশেষ ধরনের কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোকে এই নতুন করের আওতায় আনা হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে শিল্প কারখানা সরিয়ে নিলে বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে পদ্মা সেতু
বিশ্ব ব্যাংক চলে যাওয়ার পর পদ্মা সেতু নির্মাণ সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আগামী বাজেটে পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ১শ’ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভারত সরকারের অনুদান, বাকি টাকার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিলের। চলতি অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এ বছর ওই বরাদ্দ থেকে কোন অর্থ ব্যয় করতে হয়নি সরকারকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং ওই সময় বরাদ্দের অর্থ ব্যয় হবে।
পদ্মা সেতুর কারণে আগামী এডিপিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এ খাতে (সওজ, রেল, নৌ, সেতু) ১৮ হাজার ৯৮ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, পল্লী উন্নয়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা উন্নয়ন সহায়তাও রয়েছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর পর রয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ৯ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে দ্রুত কাজ শেষ করা গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে চন্দ্রা ও টাঙ্গাইল হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, ঢাকার শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) প্রকল্পে এবং মেট্রোরেল নামে পরিচিত ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

সাত বিভাগীয় শহরে দেয়া হবে জেলা বাজেট
আগামী বাজেটে ৭টি বিভাগীয় শহরের জন্য ঘোষণা করা হবে জেলা বাজেট। সে হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জন্য এ বাজেটে ঘোষণা করা হবে। এর ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার। তবে জেলা বাজেটের জন্য এবার কোন বরাদ্দ থাকছে না। বরাদ্দ দেয়া হবে ২০১৫-১৬ বছর থেকে।
চলতি অর্থবছরে টাঙ্গাইলকে মডেল জেলা হিসেবে ধরে জেলা বাজেট প্রণয়ন করা হয়। এই জেলা বাজেটের মধ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দের চিত্র দেখানো হয়। এই টাঙ্গাইল জেলার জন্য ১ হাজার ৬৭৩ কোটি ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় দেখানো হচ্ছে ৫৫৪ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।