দরিদ্রদের জন্য পেনশন

দরিদ্রদের পেনশন দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম। এ লক্ষ্যে ‘সামাজিক পেনশন স্কিম’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। ১৮ বছর বয়সের ঊধর্ে্ব বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত, যারা কোনো পেনশন সুবিধা ভোগ করেন না তাদেরই এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হবে। কর্মসূচির আওতাভুক্ত সদস্যরা ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা করে সঞ্চয় করবেন। এ বয়সসীমার পর তাদের সঞ্চয়ের যে অর্থ হবে তার দ্বিগুণ অর্থ সরকার প্রতি মাসে পেনশন হিসেবে দেবে। ইতিমধ্যে পেনশন স্কিমের খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রথমদিকে দেশে ২০টি জেলায় কর্মসূচি শুরু করা হবে। সরকারি একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।দরিদ্রদের জন্য পেনশন
নীতিমালা অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে কর্মক্ষম, যার বার্ষিক আয় ৫ হাজার টাকার নিচে, এমন পেশাজীবীকে নতুন পেনশন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তাদের বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের ওপরে হতে হবে। পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০ টাকা করে জমা দেবে। প্রতিমাসে ওই ব্যক্তি যে পরিমাণ টাকা জমা দেবে, একই পরিমাণ টাকা সরকারও তার নামে জমা করবে। ওই ব্যক্তির বয়স ৫৮ বছর হওয়া পর্যন্ত সরকার ও ব্যক্তির উদ্যোগে যৌথভাবে ওই তহবিল সঞ্চিত হবে। এরপর প্রতি বছর প্রকল্পের আওতাভুক্ত ব্যক্তিকে পেনশন হিসেবে সরকার ৩১ হাজার ৫০ টাকা করে দেবে। প্রতি মাসে পেনশনভোগী পাবেন ২ হাজার ৫৮৮ টাকা। পেনশনকালের ওই ব্যক্তি মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তিকে সঞ্চিত সব অর্থ এককালীন পরিশোধ করা হবে। কোনো ব্যক্তি ৫৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে সঞ্চিত অর্থের দ্বিগুণ অর্থ তার মনোনীত ব্যক্তিকে দেওয়া হবে।
এ ছাড়াও সঞ্চয়ের সময়ে কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে শুধু তার নিজের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দেবে সরকার। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো সরকারি আর্থিক সুবিধা পাবেন না। নীতিমালা অনুযায়ী এটি পরিচালনায় তিনটি কমিটি গঠন করা হবে। এগুলো হচ্ছে_ জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি, যার প্রধান থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী; জেলা কমিটি, যার প্রধান থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক; উপজেলা কমিটি যার প্রধান হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সরকারে এই দারিদ্র্য নিরসন কর্মসূচির আওতাভুক্ত হতে হলে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। পেনশনযুক্ত কোনো চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, শেষ বয়সে দরিদ্র প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-যাপন নিশ্চিত করতেই সরকার এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে বয়স্কভাতার কর্মসূচি সংকুচিত হবে। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্তমানে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিজিএফ প্রভৃতি চালু রয়েছে।