১৬ বিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি সম্ভব

পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্প গড়ে তোলে আগামী এক দশকের মধ্যে এখাত থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুণগতমানের চামড়া, সস্তা শ্রমিক ও কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতাসহ অন্যান্য তুলনামূলক সুবিধা ইতিবাচক অবদান রাখবে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা জোরদার করতে চামড়া শিল্পখাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধার প্রসার ও বিদেশী ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে ট্যানারি শিল্পে গুণগত পরিবর্তন আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্প: টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু। এতে পৃথকভাবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরএমএম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় এবং বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মোস্তফা। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মহল বিশেষের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও এখাতে রপ্তানি আয় বেড়ে চলেছে। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে এখাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৮০.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসেই রপ্তানি আয় বেড়ে ১.০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রপ্তানি আয়ের চলমান ধারা অব্যাহত রেখে চলতি অর্থবছরে চামড়া শিল্পখাতে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করা সম্ভব বলে তারা উল্লেখ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব চাহিদার ১ শতাংশের কম পণ্য রপ্তানি করে থাকে। তারা বাংলাদেশী চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য পরিবেশসম্মত সবুজ পণ্য উৎপাদনের তাগিদ দেন। এ লক্ষ্যে তারা দ্রুত হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তারা দেশীয় চামড়াজাত পণ্যের গুণগতমান বাড়াতে একটি আন্তর্জাতিক মানের চামড়া গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনেরও তাগিদ দেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প নিয়ে বিদেশী ক্রেতারা ছিনিমিনি খেলছে। চামড়া শিল্প নিয়ে কেউ যাতে এ ধরনের খেলা খেলতে না পারে, সেজন্য সাভারে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। এ নগরীতে কেন্দ্রিয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সিইটিপি নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদান, শ্রমিক পরিবারের আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগসহ অন্যান্য সুবিধাদি পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চলতি বছরের এ পর্যন্ত বাংলাদেশ শতকরা ১৩.০২ ভাগ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তিনি রপ্তানি প্রবৃদ্ধির জন্য পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেন। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের ফলে ভবিষ্যতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের অন্যতম রপ্তানি বাজার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন অনেক। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির সমালোচনা করা গেলেও অর্থনৈতিক সাফল্যকে কোনভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে শিল্পায়নের জন্য একটি বিরাট সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে এ বাজার সুবিধা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।