বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর অনেক ক্ষেত্র রয়েছে

ঢাকা: পোশাক, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। তবে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। যা সঠিকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শ্রম সস্তা হওয়ার কারণে এসব ক্ষেত্রসমূহ তৈরি হচ্ছে। 
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘রপ্তানি উন্নয়ন: গুরুত্বপূর্ণ দেশ সমূহের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে ডিসিসিআই।
বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান বলেন, ‘আজকে এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কীভাবে তাদের দেশে রপ্তানি বাড়াতে পারে সে বিষয়ে মতবিনিময় করা।’
তিনি আরও বলেন, ক্রয় ক্ষমতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে ৪২তম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি এবং দ্বিতীয় বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। সম্প্রতি মুডি বাংলাদেশকে বিএ৩ হিসেবে রেটিং করেছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। যা এখন বৃদ্ধি পেয়ে ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে শুধু রপ্তানিই বাড়ছে না, আমদানিও কমিয়েও স্বনির্ভর হচ্ছে। ভবিষ্যতে রপ্তানির হার আরও বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাছাড়া সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণ ইত্যাদি।
গোলটেবিল আলোচনায় আমন্ত্রিত রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার বিষয়ে অবহিত করেন। এসময় তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন ট্রেড কমিশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মিনহাজ চৌধুরী বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমদানি নির্ভর একটি দেশ। প্রধানত চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশ থেকেও অনেক পণ্য আমদানি করে থাকে। তবে এর ক্ষেত্র আরও বাড়ানো সম্ভব। এজন্য বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,  অস্ট্রেলিয়ায় ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশের পণ্য কোটামুক্ত প্রবেশ সুবিধা পেয়ে আসছে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ থেকে দেশটি মাত্র ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমাদিন করে। কিন্তু ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০৮ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের পণ্যের বহুমুখীতা বাড়ালে এই হার ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
মিনহাজ চৌধুরী আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার জনগণ দরকষাকষি করতে পছন্দ করে না। তাই বাংলাদেশ এই সুযোগ নিয়ে নতুন নতুন পণ্য রপ্তানি করতে পারে।
কোরিয়ার দূতাবাসের সিনিয়র ম্যানেজার ফারুক আহমেদ বলেন, কোরিয়ায় বাংলাদেশর ৯৫ শতাংশ পণ্য ডিউটি ফ্রি। বাংলাদেশ থেকে কোরিয়া পোশাক, নিট ও ওভেন পণ্য আমদানি করে। তবে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কোরিয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই বাংলাদেশ এ পণ্যটি বেশি করে কোরিয়ায় রপ্তানি করতে পারে।
ঢাকায় তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর তুলে ইয়োনিক বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা পণ্যে বহুমুখীকরণ নেই। তাই পণ্যের বহুমখীকরণের মাধ্যমে তুরস্কে বাংলাদেশ রপ্তানি বাড়াতে পারে।
শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার ডব্লিউ এ সারাত কে ওয়েরাগোদা বলেন,  বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বন্দর ও বিমান যোগাযোগ থাকায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং  বিনিয়োগ বৃদ্ধি লাভজনক হতে পারে।
এসময় তিনি দুই দেশের মধ্যে বন্দর যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন- ডিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শাহজাহান খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওসামা তাসির, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন ট্রেড কমিশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মিনহাজ চৌধুরী, ঢাকায় তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর তুলে ইয়োনিক, কোরিয়ার দূতাবাসের সিনিয়র ম্যানেজার ফারুক আহমেদ, শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার ডব্লিউ এ সারাত কে ওয়েরাগোদা, ইরাকের রাষ্ট্রদূত শাকির কাশিম মাহদি প্রমুখ।