চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রাজস্ব আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো চলতি অর্থবছরের মাত্র দুই মাস বাকি। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায়ের নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক ভালো হতে থাকায় গত তিন মাসের রাজস্ব আদায়ের চিত্র থেকে এ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। শুল্ক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে। রাজস্ব আদায়-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, গত তিন মাসে (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল) চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নেট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। মার্চে এ পরিমাণ কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ৭৪৪ কোটি এবং এপ্রিলে তা আরো বেড়ে আদায় হয়েছে ২ হাজার ১০ কোটি টাকা। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত বছরের শেষ নাগাদ ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে অত্যাধিক সতর্কতা অবলম্বন করায় আমদানি-রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার গতি কমার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির হার। অন্যদিকে একই সময়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অবকাঠামো সমস্যার কারণে বিনিয়োগও স্থবির হয়ে পড়ে। সবকিছু মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের চিত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়লে উদ্বেগ বাড়ে এনবিআরের। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রার মোট জাতীয় রাজস্বের সিংহ ভাগই আহরণ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। তাই এখানকার রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি উদ্বেগ তৈরি করে। তবে এখন ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার প্রবণতাসহ আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে। ফলে রাজস্ব আদায়ের নেতিবাচক ধারা থেকে বের হয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া সম্প্রতি রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে আনতে বেশকিছু উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।’ রাজস্ব আহরণ-সংক্রান্ত আমদানি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় কিছু সুনির্দিষ্ট পণ্যে সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমদানি কমে যাওয়া এসব পণ্যের তালিকায় রয়েছে শ্যাম্পু, রিকন্ডিশনড গাড়ি, মোটরসাইকেল, বাস ও ট্রাকের টায়ার, হটরোল্ড কয়েল (ইস্পাতের কাঁচামাল), রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনিং মেশিন, ইলেকট্রিক ফ্যান, লাইটিং ফিটিংসের যন্ত্রপাতি প্রভৃতি। শুল্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব পণ্যের আমদানি অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে শুল্কহার কমিয়ে আনাকেও রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।