পোশাক খাতে নেয়া পদক্ষেপে কিছু অগ্রগতি হয়েছে ॥ নিউইয়র্ক টাইমস

রানা প্লাজা ধসের পর এক বছরে পোশাক খাতের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ অগ্রগতি বাস্তবায়নে আরও কাজ করতে হবে। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে অবিশ্বাস্যভাবে কঠিন ছিল উন্নত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার আগে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল গার্মেন্টসে কাজের পরিবেশ। পাশাপাশি সস্তায় শ্রমের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বড় রফতানিকারকদের মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশ।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কর্মস্থলে কাজের পরিবেশে উন্নতি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সামনে আসে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, পোশাক শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হলেও সংগ্রহ করা হয় মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলার। কারখানার মালিক ও বিদেশী ক্রেতারা পুরো অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে বলা হয়। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরও পশ্চিমা ক্রেতারা কার্যাদেশ বাতিল করলেও পোশাক রফতানি কমেনি। এতে বলা হয়, পোশাক খাতে গত মার্চ পর্যন্ত ২৩.৯ মিলিয়ন বা ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এদিকে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর পশ্চিমা ক্রেতাদের চাপে বাংলাদেশের প্রায় ২ হাজার ৩শ’ গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, কারখানার কাজের পরিবেশ উন্নতি সাপেক্ষে পশ্চিমা ক্রেতারা ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে এগিয়ে আসে। তবে অনেক বিদেশী ক্রেতাই বাংলাদেশের পোশাকের দাম বাড়াতে চায়নি। আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের রক্ষায় কাজ করছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা উন্নত করার কোন প্রচেষ্টা টেকসই হতে পারে এটা ভাবছে সরকার। এতে বলা হয়, ভাল কাজের পরিবেশ দাবিতে তাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসন। এছাড়া শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করা বা ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত আইনের আওতায় আনার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে, ২০১৩ সালের শুরু থেকে ১৪০টি শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু এখনও কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রে বাধ্য করছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুই শ্রমিককে লাঞ্ছিত করা হয় তাদের কর্মস্থলে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়, কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমা কোম্পানি দ্বারা নিরীক্ষিত হচ্ছে পরিদর্শকগণ, ভাড়া ও প্রশিক্ষণ। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এক বছর আগেও ভাল ছিল, কিন্তু তারা যথেষ্ট নিরাপদ নয়।