দু’হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে এডিবি কাল চুক্তি সই

রাজধানীতে পানি সরবরাহে সহজ শর্তে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার। এডিবি ছাড়াও পানি সরবরাহ সংক্রান্ত মেগা এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে আরও দুটি সংস্থা। দাতা সংস্থা ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মেঘনা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পানির চাহিদা মেটানো হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এবং এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি।
এডিবি ডেস্কের প্রধান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ঋণের বিষয়ে নেগোশিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অর্থায়নের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবির ঋণের পাশাপাশি ফরাসী উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) দেবে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা এবং ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) দেবে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা। এডিবি সহজ শর্তে (এডিএফ) এ ঋণ দিচ্ছে। এ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা অফিসের যোগাযোগ কর্মকর্তা গোবিন্দবার জনকণ্ঠকে জানান, ঢাকা ইনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে এ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থায়নে দাতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এডিবি সুতরাং এডিবির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে অপর দুই দাতা সংস্থার সঙ্গে আলাদা চুক্তির প্রয়োজন হবে না।
সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীর পুরাতন ঢাকা, মতিঝিল, পুরানা পল্টন, উত্তরা, গুলশান, বনানী, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, বাড্ডাসহ পুরো মিরপুর এবং এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় পানি সরবরাহ কম হচ্ছে। এ সব এলাকায় পানি সরবরাহের মূল উৎস ভূ-গর্ভস্থ গভীর নলকূপ। প্রতিনিয়ত এই গভীর নলকূপগুলোর পানি উত্তোলনের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মান প্রতিনিয়তই খারাপ হচ্ছে। ফলে পানি পরিশোধন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এ প্রেক্ষিতে মেঘনা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশনন্দী, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ হয়ে গান্ধর্বপুর এলাকায় ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পরিশোধন করা হবে। এতে প্রতিদিন ৫শ’ এমএলডি পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা যাবে। এ জন্য একদিকে যেমন ঢাকা মহানগরীর বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দূর হবে অন্যদিকে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন কমে গেলে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবির দেয়া ঋণের সঙ্গে অন্য দুটি দাতাসংস্থার ১ হাজার ৬০০ কোটি, সরকারী নিজস্ব তহবিলের ১ হাজার ৭৩৮ কোটি ৮২ লাখ এবং ঢাকা ওয়াসার ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ঢাকা ওয়াসার।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫শ’ এমএলডি পানি পরিশোধন ও সরবরাহের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হবে। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ১৯ আগস্ট এবং ১৫ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। পরবর্তীতে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এডিবির চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটি বাস্তবায়নে আর কোন বাধা থাকবে না বলে জানা গেছে।

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥