তাইওয়ানের হলুদ তরমুজ চাষে সাফল্

রাজীব দেব রায় রাজু, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে : তাইওয়ান হলুদ তরমুজ চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন কৃষক আমজাদ খান। ৩ একর জমিতে পরিকল্পিতভাবে তাইওয়ানের হলুদ তরমুজ চাষ করে প্রথমবারেই সফলতা পান তিনি। তাইওয়ানের হলুদ জাতের তরমুজ দেখতে ও চাষ পদ্ধতি শিখতে এখন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা গ্রামে আমজাদ খানের খামারে প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গা থেকে ছুটে যাচ্ছে লোকজন।

তার কৃষি খামারে এখন হলুদ তরমুজের সমাহার। মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়ন কৃষিক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সুপরিচিত নাম। এই এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি ও বিভিন্ন ফলমূল চাষ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাধবপুর উপজেলা সদরের আমজাদ খান। তিনি চৌমুহনী ইউনিয়নের হরিণখোলা মৌজায় অনেকগুলো জমি লিজ নিয়ে নানা ধরনের ফলমূল, শাক-সবজি উৎপাদন করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। তার উৎপাদিত উন্নত জাতের টম্যাটো সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশেই রপ্তানি হচ্ছে। স্বীকৃতি স্বরূপ বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

সফল কৃষক আমজাদ খান এবার প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের হলুদ তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন। এ অঞ্চলে উন্মোচন করেছেন নতুন জাতের তরমুজ চাষ। তার হলুদ রংয়ের তরমুজ খেতে, দেখতে ও চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন এই এলাকার কোনো না কোনো গ্রাম থেকে কৃষকরা ছুটে আসেন তার খামারে। আমজাদ খানের হলুদ তরমুজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা থেকে পাইকাররা নতুন জাতের হলুদ তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে জমি থেকে। অন্য ফসলের পাশাপাশি

হলুদ তরমুজ চাষে আগ্রহী হন তিনি গত বছরের শেষ দিকে। এগ্রো কনসাল নামে একটি কোম্পানি থেকে বীজ সংগ্রহ করে ২০১৪ সালের শুরুতেই তিনি ৩ একর জমিতে পরিকল্পিতভাবে তাইওয়ানের হলুদ তরমুজ চাষ করে প্রথম বারেই সফলতা পান। ২ লাখ টাকা উৎপাদন খরচ হয়। এখন উঠে আসবে প্রায় ১০ লাখ টাকা এমনটাই আশা তার। ৭৫ দিনের মধ্যেই এ জাতীয় তরমুজের ফলন পাওয়া যায়। তাই বছরে ৩ বার একই জমিতে এ ফসল ফলানো সম্ভব।

কৃষক আমজাদ খান জানান, মাধবপুরের আবহাওয়া ও মাটি তাইওয়ানের হলুদ তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ জাতীয় তরমুজ চাষ করে এখানকার কৃষক স্বাবলম্বী হতে পারবেন। কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান, আমজাদ খান একজন সফল কৃষক। তার উৎপাদিত নতুন জাতের তরমুজ চাষ এলাকার জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।