৩৬০০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ নতুন ৯ ব্যাংকের

বছরখানেক হলো নতুন ব্যাংকগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে নতুন ৯টি ব্যাংক মিলে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করেছে। ঋণও বিতরণ করেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো। শহর ও গ্রাম মিলে ৮৭টি শাখাও খুলেছে এই ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে দুই হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের এই ব্যাংকগুলোতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বেসরকারি ছয়টি ও প্রবাসীদের তিনটি ব্যাংক মিলে তিন হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক ৮৫০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ফারমার্স ব্যাংক ২০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, মধুমতি ব্যাংক ২০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংক ৩৫৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, মেঘনা ব্যাংক ৩১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, সাউথ-বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ৬৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, এনআরবি ব্যাংক ২৫৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ৬৯৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং এনআরবি গ্লোবাল ১৩২ কোটি ১৫ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। এদের মধ্যে একমাত্র ইউনিয়ন ব্যাংকিই একমাত্র ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক।

এদিকে নতুন ৯ ব্যাংক মিলে ঋণও দিয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার মতো। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ ও সংগৃহীত আমানতের অনুপাতের (এডিআর) গড় দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের এডিআর ৭২.৮৩ শতাংশ, ফারমার্স ব্যাংকের এডিআর ২৩.৪৬ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংকের এডিআর ১৫ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের এডিআর ৬৪.০২ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংকের এডিআর ৬৫.৬৫ শতাংশ, সাউথ-বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংকের এডিআর ৬৫.৩৬ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংকের এডিআর ২৪.১০ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এডিআর ৭৩.৯৬ শতাংশ এবং এনআরবি গ্লোবালের এডিআর ৮৩.৭২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পারে।

জানা গেছে, গত মার্চ পর্যন্ত নতুন ব্যাংকগুলো মোট ৮৭টি শাখা খুলেছে। এর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ১২টি, এনআরবি ব্যাংক ছয়টি, এনআরবি গ্লোবাল তিনটি, ইউনিয়ন ব্যাংক ১৭টি, সাউথ-বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংক ১৩টি, ফারমার্স ব্যাংক ১২টি, মিডল্যান্ড ব্যাংক ১২টি এবং মধুমতি ও মেঘনা ব্যাংক ছয়টি করে শাখা খুলেছে। এর মধ্যে অর্ধেক শাখাই গ্রামে।

নতুন ব্যাংকগুলো গ্রামে প্রধান কার্যালয় স্থাপন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাড়তি সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাতে অবশ্য আগ্রহ দেখায়নি কোনো ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি গুলশান এলাকায় এবং তিনটি মতিঝিল এলাকায় প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেছে। এর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল, মধুমতি ও সাউথ-বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় মতিঝিল এলাকায়। প্রতিটি ব্যাংকে গড়ে ২০০ কর্মী কাজ করছেন।

জানতে চাইলে মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম শহিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন ব্যাংকগুলো যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেছিল, যে কারণে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়নি। এর পরও নতুন ব্যাংকগুলো ভালো করছে। কেননা এই ব্যাংকগুলোর মূলধন অনেক বেশি।’

এ কে এম শহিদুল হক আরো বলেন, নতুন ব্যাংকগুলো কম স্প্রেড (ঋণ ও আমানতের সুদ হারের ব্যবধান) নিয়ে এগোচ্ছে। এ কারণে তাদের পক্ষে সেবার মান বাড়ানো সহজ।

নিজের ব্যাংক প্রসঙ্গে এ কে এম শহিদুল হক বলেন, ‘আমরা কৃষি ও এসএমই ঋণ বিতরণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তা ছাড়া ঋণ বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে সব খাতে ঋণ বিতরণের চেষ্টা করছি।’

সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে এনআরবি কমার্শিয়ালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন ব্যাংকগুলোর সাফল্যই বলে দেয় দেশে আরো ব্যাংকের দরকার ছিল। নতুন ব্যাংকের দরকার আছে বা ছিল না- এ প্রশ্নের আর অবকাশ নেই। আমরা নতুন হলেও ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত প্রতিযোগিতার মধ্যে নতুন ব্যাংককে টিকে থাকতে হলে একমাত্র সেবা দিয়েই টিকে থাকতে হবে। সে জন্য আমরা চেষ্টা করছি সেবার মান বাড়াতে। এর পাশাপাশি আমানতের নিরাপত্তা বিধানেও আমরা সচেষ্ট।’

জানা গেছে, আগামী ৩০ এপ্রিল বুধবার নতুন ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।