বাংলাদেশে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কোরিয়া

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা বাড়াচ্ছে কোরিয়া প্রজাতন্ত্র। ইতোমধ্যেই সারাদেশে ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহজ-শর্তে প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে দেশটি। আগামীতে আরও সহযোগিতা বাড়াতে ২৩ এপ্রিল একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসছে।
এ বিষয়ে কোরিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আসিফ-উজ-জামান জনকণ্ঠকে বলেন, আগামী সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪টি প্রতিনিধি দল আসবে কোরিয়া থেকে।
যারা এদেশের চলমান অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামীতে কিভাবে আরও সহায়তা বৃদ্ধি করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবে। তাছাড়া তাদের অর্থায়নে বর্তমান চলমান প্রকল্পগুলো অগ্রগতি ও ভবিষ্যত কোন খাতে কি ধরনের প্রকল্প নেয়া যাবে সেসবও আলোচনায় স্থান পাবে।
সূত্র জানায়, সারাদেশে ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যেই একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫৬ কোটি ৮৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে কোরিয়া সরকার দিচ্ছে ৬১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং সরকারী তহবিল থেকে ৩৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।
এ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অনুমোদন দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে সহজ শর্তে এ ঋণ দেয়া হচ্ছে। এর সুদের হার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ, সার্ভিস চার্জ শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ, গ্রেইস পিরিয়ড ১৫ বছর ৬ মাস এবং ৫০টি অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধযোগ্য। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইন্টারনেট এক্সসেজ প্রদানের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হবে। সেই সঙ্গে সকলের জন্য কম খরচে টেলি এক্সেস সুবিধা সম্প্রসারণ, দেশে উচ্চ গতি ও উচ্চ মানসম্পন্ন টেলিডেনসিটির সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো সম্প্রসারিত হবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্পতে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন পলিসি (আইসিটি) ২০০৯ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই আইসিটি পলিসিতে সামাজিক সাম্য, উৎপাদনশীলতা, জনসেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা, শিল্প ও গবেষণা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রফতানি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশনে সার্বজনীন প্রবেশাধিকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এই নীতিমালায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে দেশের গ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থাকরণ, জাতীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্তকরণ এবং ইন্টারনেট (আইপিপি) টেলিফোন ও ভিডিও কনফারেন্সিং চালুর জন্য সুযোগ সৃষ্টি। সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণের জন্যই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে কোরিয়ার আবির্ভাব খুব বেশি দিনের না হলেও প্রাধিকার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কোরীয়া দুটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। এর একটি হচ্ছে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন (ইডিসিএফ) ঋণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অন্যটি হচ্ছে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কইকা) অনুদান প্রদানকারী সংস্থা।
সম্প্রতি প্রকাশিত ইআরডি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলো মধ্যে কোরিয়া অন্যতম। অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির দিক থেকে কোরিয়া এগিয়ে যাচ্ছে অতিদ্রুতভাবে। কোরিয়ার সুবিধাভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই পঞ্চদশ স্থান থেকে তৃতীয় বৃহত্তম দেশে উন্নীত হয়েছে।