ঢাকায় ডিজিটাল বাস

দেশে চালু হলো ডিজিটাল বাস। রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল রুটে বিআরটিসির ২০টি বাসে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এসব বাসে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ছাড়াও যাত্রীরা খুব সহজে বাস ট্র্যাক করতে পারবেন।

সমকাল প্রতিবেদক
দেশে চালু হলো ডিজিটাল বাস। রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল রুটে বিআরটিসির ২০টি বাসে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এসব বাসে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ছাড়াও যাত্রীরা খুব সহজে বাস ট্র্যাক করতে পারবেন।urbanlaunchpad.org/brtc/ সাইট থেকে বাসের রুট, বাসটি কোন রুটে কোন দিকে যাচ্ছে তা লাইভ ট্র্যাক করা যাবে। ফলে সহজেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যাবে। ঢাকায় যাতায়াত ব্যবস্থার আদর্শ ম্যাপ না থাকলেও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীরা পরিকল্পিত-ভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। গতকাল ফার্মগেটে ডিজিটাল বাস কার্যক্রমের উদ্বোধন করে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রথম দফায় পরীক্ষামূলকভাবে ওয়াই-ফাই সুবিধা ২০টি বাস নামানো হলেও পর্যায়ক্রমে বিআরটিসির আরও বাসে এই প্রযুক্তি বসানো হবে। ঢাকা ছাড়া অন্য শহরেও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল বাস চালু হবে।ঢাকায় ডিজিটাল বাস
যোগাযোগমন্ত্রী জানান, মতিঝিল-উত্তরা রুটে আর্টিকুলেটেড ও একতলা-দোতলা মিলিয়ে ২০টি বাসে ফ্রি ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবাসহ ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষও অফিসে বসেই বাসের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে। বাসের চালককে প্রয়োজন মতো নির্দেশনাও দেওয়া যাবে।যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় কোনো আদর্শ যাতায়াত (ট্রানজিট) ম্যাপ বা দিকনির্দেশনা না থাকায় প্রয়োজনের সময় সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টকর। বাসযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব ও পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামীতে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ব্যবহার উপযোগী অ্যাপ্লিকেশন তৈরি এবং বাসম্যাপ প্রিন্ট করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে।ডিজিটাল বাস কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাসে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের চারটি থ্রিজি ওয়াই-ফাই রাউটার থাকবে। বিআরটিসির ডিজিটাল বাস ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে চললেও যাত্রীদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা হবে না। একটি বাসে অন্তত ৪০ জন যাত্রী স্মার্ট ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। একজন যাত্রী তার স্মার্টফোনের মাধ্যমে বাসের ভেতরে স্টিকারে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বাসযাত্রীর স্মার্টফোনে কিউআর কোড স্ক্যানার অ্যাপ্লিকেশনটি থাকা লাগবে।ডিজিটাল বাস কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিআরটিসির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন আহমেদ, এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।ইউএনডিপি ও ইউএসএইডের অর্থায়নে পরিচালিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের কারিগরি সহায়তায় ডিজিটাল বাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক কম। তাই যাত্রীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সরকার কাজ করছে। নতুন আরও ১০০টি আর্টিকুলেটেড ও ৩০০টি দোতলা বাস আনা হবে। এছাড়া পণ্য পরিবহনের জন্য ৫০০ ট্রাকও আনা হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে আধুনিক ট্যাক্সিক্যাব চালু হবে। মে-জুনের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৬০০ ক্যাব চলবে। ভাড়া নিয়ে যে আপত্তি উঠেছে তা বিবেচনা করে ভাড়া কমানো যায় কি-না তা দেখা হবে।