তিন বছরে পাল্টে গেছে রূপালী ব্যাংক : লোকসান কাটিয়ে লাভজনক ব্যাংকের তালিকায়

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে নানা অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা চললেও চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে রূপালী ব্যাংকের। গত তিন বছর আগেও আর্থিক সূচকে ব্যাংকটি ছিল পেছনের সারিতে। রূপালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে ব্যাংকটির আধুনিকায়ন যেমন ঘটেছে। তেমনি বেড়েছে রেমিটেন্স আয়। ব্যাংকটি শুরু করেছে অনলাইন ব্যাংকিং। ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি কমছে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ। ২০১০ সালে রূপালী ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ৯ হাজার ১১২.৩৮ কোটি টাকা। ২০১১ সালে মোট আমানতের পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার ৭২৩ কোটি ৪০ টাকা হয়েছে। এর প্রবৃদ্ধির হার ১৭ দশমিক ৬৮। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং ২০১৩ সালের আমানত দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা।রূপালী ব্যাংকের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, এক সময় নিম্নমানের ব্যাংকের উদাহরণ হিসেবে রূপালী ব্যাংককে ধরা হতো। কারণ রূপালী ব্যাংকের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ফরিদ উদ্দিন অতীতের সকল সমস্যা কাটিয়ে ব্যাংকটিকে টেনে ওপরে তুলছেন। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির বলেন, আমি এটিকে একটি ভঙ্গুর ব্যাংক হিসেবে পাই। তবে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় ভঙ্গুর দশা থেকে ব্যাংকটিকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসি।
রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ব্যাংকের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করার চেষ্টা করি। প্রথমে ব্যবসা বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকবল নিয়োগ, অটোমেশন, কম্পিউটারাইডজ পদ্ধতি চালু, নতুন শাখা খোলা, উন্নত গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা, শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়, ঋণ বিতরণ, নতুন শাখা খোলার পাশাপাশি ব্যাপক সংস্কার করি।
কাগজ প্রতিবেদক :