খুলল কুয়েতের বন্ধ শ্রমবাজার

মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধ শ্রমবাজার কুয়েত আবারও বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়া শুরু করেছে। গত মাসের পর চলতি মাসেও কমপক্ষে ত্রিশজন শ্রমিক যাওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) একজন পরিচালক। এর মধ্য দিয়ে পুরনো এই শ্রমবাজারটি পুনরায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হলো।
বিএমইটির কর্মকর্তারা বলেছেন, কুয়েতের একটি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৫৯৩ জন কর্মী নেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে গত ডিসেম্বরে একটি চিঠি দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে। আর ওই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারি মাসে নমুনা হিসেবে প্রথম ধাপে চারজন কর্মী গেছেন সেখানে। বাকিরা যাবেন ধারাবাহিকভাবে। বিএমইটির পরিচালক (বহির্গমন) আবদুল লতিফ খান এ কথা জানান।
এ বিষয়ে বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামছুুন নাহার বর্তমানকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের শ্রমবাজার অনেক দিন বন্ধ ছিল। ডিসেম্বর মাসে পুনরায় কর্মী নেয়ার আগ্রহ দেখিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে একটি চাহিদা পত্র পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ওই চাহিদা পত্রের আলোকে গত মাসে অল্প পরিসরে হলেও কর্মী নেয়া শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ কুয়েত।
বিএমইটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন কারণে ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ রেখেছে। সূত্র আরও জানায়, দেশটিতে যুদ্ধের পর আস্তে আস্তে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া কমে যায়। কর্মী নেয়ার কোটা পূরণ সংক্রান্ত জটিলতা, কিছু কর্মীর বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হওয়ার কারণে দেশটির সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখায়। এছাড়াও বাংলাদেশি কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার কারণে দেশটির বিভিন্ন কোম্পানি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এখন আবারো কর্মী নেয়া শুরু হওয়ায় বাংলাদেশিরা আগের মতোই কাজ নিয়ে সেখানে যেতে পারবেন।
বিএমইটির হিসাব মতে, ১৯৭৬ সাল থেকে দেশটি নিয়মিত কর্মী গেলেও ২০০৬ সালের পর থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ রয়েছে। ২০০৬ সালে দেশটিতে ৩৫ হাজার ৭৭৫ জন এবং তার আগের বছরে ৪৭ হাজার ২৯ জন কর্মী গেছেন কুয়েতে। কিন্তু ২০০৭ সালে ৪ হাজার ২১২ জন, ২০০৮ সালে ৩১৯ জন, ২০০৯ সালে ১০ জন, ২০১০ সালে ৪৮ জন, ২০১১ সালে ২৯, ২০১২ সালে ২ জন কর্মী গেছেন দেশটিতে এবং ২০১৩ সালে ৬ কর্মী যায় সেখানে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) সিনিয়র প্রোগ্রামার পারভেজ সিদ্দিকী বর্তমানকে বলেন, কুয়েতে জনশক্তি রফতানির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের মূল সমস্যা হচ্ছে কফিল (জামিনদার) পরিবর্তন করে নিজের পছন্দমতো কাজ নেয়ার কোনো সুয়োগ নেই। কুয়েতের মুদ্রার মানও ভালো। তিনি মনে করনে, প্রথমে কর্মী গ্রহণকারী দেশকে কর্মীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে কর্মীর বেতন ঠিক করতে হবে, যেন সেখানে গিয়ে কর্মী প্রতারণার শিকার না হন। এছাড়া অভিবাসন খরচ যত কমানো যায় এবং ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করতে হবে কর্মী গ্রহণকারী দেশের সঙ্গে আলোচনা করে।