আবাদের নতুন দিগন্ত : সিংড়ায় ধানের বদলে ভুট্টা বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

চলনবিল অধ্যুষিত শস্যভান্ডার খ্যাত গুড়নদী বয়ে চলা নাটোরের সর্ববৃহৎ উপজেলা সিংড়াসহ চলনবিল অঞ্চলের অনেক কৃষক ধান চাষের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করছেন। গত বছরের ন্যায় এ বারের রবি মৌসুমেও ভুট্টার বামপার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে ও এলাকার ভুট্টা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলনবিলের ৯টি উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষাবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে একটি পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সর্ববৃহত উপজেলা সিংড়াতেই ১৪০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, গত বছর ১ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে গত বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে এ বছর ১৪০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হচ্ছে। আমরা কৃষকদের সার্বোক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।
ভুট্টা চাষিরা অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে ভুট্টাবীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ সহজলভ্য না হওয়ায় ব্র্যাক, সিনজেনটা এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চড়া মূল্যে বীজ কিনতে বাধ্য হন। তবে সরকারিভাবে ভুট্টা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে চলনবিল অঞ্চলে ভুট্টা উৎপাদনে সহায়ক হবে।
পৌরসভার সরকারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আলিমুদ্দিন খানসহ কয়েকজন ভুট্টা চাষি বলেন, ধানের চেয়ে ভুট্টা বেশি লাভ জনক, প্রায় একই খরচ ও তুলনামূলক কম পরিশ্রমে ভুট্টা চাষ করা যায়, এ ফসল প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও টিকে থাকে। তাছাড়া বোরো চাষে যেভাবে সেচের প্রয়োজন হয় ভুট্টা চাষে তার দরকার হয় না। ভুট্টা ক্ষেতে ৪-৫ বার সেচ দিলেই চলে। আর বাজারদর সবসময়ই ভালো থাকায় চাষিরা ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৭ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তার প্রতিবিঘা ভুট্টা চাষে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ৩৫-৪০ মণ ভুট্টা ঘরে তুলতে পারবেন। পৌর বাসিন্দা আলহাজ আকবর আলী ২ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ভুট্টা চাষে সময়, খরচ ও পরিশ্রম সবই কম। এছাড়া যেসব জমিতে অন্যান্য দানাদার ফসল চাষ সম্ভব হয় না সেসব জমিতে সহজেই ভুট্টা চাষ করা যায়। ইটালি ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক টগর হোসেন ৩ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ভুট্টা এমন একটি ফসল যার কোনটিই অব্যবহৃত থাকে না। কেননা এর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, পাতা গোখাদ্য হিসেবে খামারিরা ব্যবহার করেন। আর ভুট্টা মানুষসহ হাস-মুরগির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কুমার সরকার বলেন, সারা বছরই ভুট্টা চাষ করা যায়। গত বছরের তুলনা এবাবের ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেশি। এমনকি ভুট্টা চাষে খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা সর্বদাই লাভবান হন। আর ভুট্টা পোল্ট্রি ফিড, ফিশ ফিড এমনকি বেকারী শিল্পে ব্যবহার হয় বলে বাজারে এর চাহিদা সব সময়ই থাকে। একারণে বাজার দরও ভালো থাকে।
মোট কথা, এবার ভুট্টা চাষের সবধরণের প্রক্রিয়া শেষ করে চলনবিলের চাষিরা ভুট্টার বামপার ফলনের আশায় প্রহর গুনছেন।