শ্রীপুরে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মাগুরা শ্রীপুরে গমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে গোটা জেলায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অধিক জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে।
আবাদকৃত ক্ষেত থেকে প্রায় ২০ হাজার টন গম উত্পাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর পুরো জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের গমের আবাদ হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের আওতাধীন বাংলাদেশ গম গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বারি-২৫, ২৬, শতাব্দী, সৌরভ ও প্রদীপ নামের বিভিন্ন জাতের গম চাষ করা হয়েছে।
গম মূলত শীতকালীন ফসল। সাধারণত ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে গম রোপণের উপযুক্ত সময়। পরিপক্ত পাকা গম ঘরে উঠতে সময় লাগে ১৩৫ থেকে ১৪৫ দিন। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গম পাকার আগে শীত বিদায় নেয়ার পথে।
স্থানীয় জাতের গমের জন্য একটু ক্ষতি হলেও বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো তাপমাত্রা সহনশীল হওয়ায় চাষের ক্ষেত্রে তেমন কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। অতীতে কৃষকরা শীতপ্রধান কাঞ্চন, সোনালীকাসহ স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত জাতের বীজ দিয়ে গম চাষ করে একর প্রতি ১০ থেকে ১৫ মণ ফলন পেত। কিন্তু বর্তমানে উচ্চফলনশীল জাতের গম চাষ করে কৃষকরা একরপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ করে ফলন পাচ্ছেন।
এ মৌসুমেও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে একর প্রতি ৪০ মণ গম ঘরে তুলতে পারবে বলে কৃষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী জানান- এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও কৃষকরা উচ্চফলনশীল জাতের গম আবাদ করায় ফলন বেশ ভাল হয়েছে।