শাবির আকাশে নিজেদের ড্রোন

ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত আকাশে উড়ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ড্রোন। (ইনসেটে) ওড়ানোর আগে শাবি ক্যাম্পাসে নিজেদের তৈরি ড্রোন হাতে নাবিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে তিন মাসের মধ্যে উড়বে চালকবিহীন আকাশযান ড্রোন। গত ৫ জানুয়ারি কালের কণ্ঠকে এমনটাই বলেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তরুণ গবেষকদল ‘সাস্ট রোবটিকস অ্যারোনটিকস অ্যান্ড ইন্টারফেসিং রিসার্চ গ্রুপের’ (সাস্ট রোবোঅ্যারো) সদস্যরা। তিন মাস নয়, মাত্র চার সপ্তাহের মাথায় সেই ড্রোনের পরীক্ষামূলক সফল উড্ডয়নে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা।
শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে গতকাল বুধবার এবং এর আগের দিন দুই দফায় ম্যানুয়েল মুডে ড্রোনের সফল উড্ডয়ন করা হয়। সাস্ট রোবোঅ্যারো দলের প্রধান ও শাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ড্রোন উড্ডয়নের মাধ্যমে আমরা মূল গবেষণাকাজের বড় একটি ধাপ সফলভাবে পার হলাম।
এটাতে এখনো ড্রোনের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি আসেনি। ম্যানুয়েল মুডে উড্ডয়ন করা হয়েছে। এবার এটাকে পূর্ণাঙ্গ ড্রোনে রূপান্তরের পালা। এখনো অনেক কাজ বাকি। কয়েক দিনের মধ্যেই অটোমেটিক মুডে চলে আসবে এই ড্রোন। ডিসিসির (ড্রোন কন্ট্রোল সেন্টার) সফটওয়্যার তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।’
গত মঙ্গলবার প্রথমবার পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা হয় ড্রোনের। প্রথম দিন পনের মিনিট ধরে শাবি ক্যাম্পাসের আকাশে ঘুরে বেড়ায় ড্রোন। এ সময় আকাশ থেকে ড্রোনের ক্যামেরা ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা নিয়ন্ত্রকদের কাছে সরাসরি পাঠাতে থাকে। আর গতকাল প্রায় পাঁচ মিনিট শাবির আকাশে ওড়ানো হয় ড্রোন।
শুরুতে ড্রোনের যে আকৃতি ছিল তাতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান নাবিল। তিনি বলেন, ‘ড্রোনের আকার একটু বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা ড্রোনটি দৈর্ঘ্যে চার ফুট এবং এক ডানা থেকে অন্য ডানা পর্যন্ত পাঁচ ফুট দীর্ঘ।’ তিনি আরো জানান, কিছুদিনের মধ্যেই তাঁরা ড্রোনকে সম্পূর্ণ অটোমেটিক মুডে নিয়ে আসতে পারবেন। তখন নির্দিষ্ট দূরত্বে নজরদারি, ছবি কিংবা তথ্য সংগ্রহের কাজের পাশাপাশি ড্রোন নিজে থেকে নির্ধারিত গন্তব্যে গিয়ে আবার নির্দেশনা অনুযায়ী ফিরে আসতে পারবে।
ড্রোনটি সচল করে হাত দিয়ে ছুড়ে দিলেই এটি উড়তে শুরু করে বলে জানান নাবিল। আপাতত ৭০০ মিটার পর্যন্ত এটি চলতে পারে। তবে কাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যে এটি পাঁচ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত কাজ করতে পারবে। নাবিল জানান, তাঁদের তৈরি ড্রোনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি পাঁচতলা ভবন সমান উচ্চতা অতিক্রম করার পর মাটি থেকে এটির কোনো শব্দ শোনা যাবে না।
ড্রোনে বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা স্থাপন, নিয়ন্ত্রণের নানা কারিগরি যন্ত্র সংযোজনের পাশাপাশি ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে কিছুদিনের মধ্যেই এটির সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
সাস্ট রোবঅ্যারোর সদস্যরা বলেন, এত দিন গোপনে বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হলেও মঙ্গলবার জনসমক্ষে সফলভাবে এটি ওড়ানো হয়। এর আগে ২০১৩ সালের এপ্রিলে ড্রোনের থিওরিটিক্যাল কাজ শুরু করা হয়।
এই প্রকল্পে তিনজন কাজ করছেন। নাবিল ছাড়াও অন্য দুজন হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রবি কর্মকার ও মারুফ হোসেন রাহাত।
প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। গতকাল দ্বিতীয় দফায় সফল উড্ডয়নের পর ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘বাইরের দেশ থেকে ড্রোন আনতে লাখ লাখ কোটি টাকা খরচ পড়বে। তবে দেশেই এটা তৈরি সম্ভব।’ এ ধরনের গবেষণার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।