ভাগ্য বদলে দিচ্ছে পাহাড়ি ঝাড়-ফুল

মিরসরাই: মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঝাড়–ফুল বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছেন স্থানীয়রা। পাহাড়ি ঝাড়–ফুল অর্থকরী প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ। মৌসুম হওয়ায় শীতের এই সময়ে উৎপাদিত এই ফুল বছরের দুই থেকে তিন মাস কর্মসংস্থানহীন মানুষের জন্য আয়ের একটি বড় বিকল্প উৎস হিসেবে অবদান রাখে।
এক সময় একরের পর একর পাহাড়ি ঝাড়–ফুলের বাগান এমনিতেই পড়ে থাকত। শুধু নিজেদের প্রয়োজনে স্থানীয় পরিবারগুলোতে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার জন্য পরিমাণমতো সংগ্রহ করে রাখা হত এই ঝাড়-ফুল। এই ঝাড়-ফুল যে কখনো আয়ের উৎস হতে পারে তা স্থানীয়দের কল্পনাতেও ছিল না।
কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে থেকে শীতের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাহাড়ি ঝাড়-ফুলের ব্যবসা লাভজনক হিসেবে বেশ গুরুত্ব লাভ করেছে। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষদের জন্যও আয়ের একটি অন্যতম উৎস হিসেবেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এই ব্যবসা।
স্থানীয় শ্রমিক আব্দুল মোতালেব জানান, এই ঝাড়–ফুল একদম খাড়া পাহাড়েই বেশি জন্মায় বলে এগুলো কেটে সংগ্রহ করা খুব কষ্টের কাজ। তাছাড়া এই গাছের পাতাগুলো বেশ ধারালো হওয়ায় ফুল সংগ্রহের সময় হাতের আঙুলসহ প্রচুর কাটা-ছেঁড়া হয় শরীরে। তাই বাজারে এই ঝাড়-ফুল যত সহজে  পাওয়া যায়, ততটা সহজ প্রক্রিয়ায় এই ফুল বাজারে যায় না।
পাহাড় থেকে ঝাড়–ফুল এনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন স্থানীয় শ্রমিকরা। সেখান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এগুলো কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান।
মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা মূল্যের ঝাড়–ফুল স্থানীয় বাজারগুলোতে ওঠে। আজ বুধবার হাটের দিন বড়দারোগাহাট বাজারে আনুমানিক ছয় থেকে সাত লাখ টাকার ঝাড়–ফুল বাজারে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ঝাড়–ফুলের এখনো পূর্ণ মৌসুম আসেনি, পূর্ণ মৌসুমে প্রতি বাজারে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ঝাড়–ফুল বাজারে ওঠে।”
ব্যবসায়ী শাহাজান, বিকাশ ও বাছা মিয়া জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঝাড়–ফুলের বাজারদর ভালো। গত বছরের এই সময়ে প্রতিটি ফুলের আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও সেই তুলনায় এ বছর ১৫ টাকা দরে ফুলের আঁটি কেনাবেচা হচ্ছে।
জানা গেছে, ঘরের ঝাড়ু হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও এই ঝাড়–ফুল ভবনের রং মিস্ত্রিদের রঙ করার কাজেও ব্যবহৃত হয়। ফলে সব মিলিয়ে দেশে এই ঝাড়–ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।