রিজার্ভ ফের ১৮ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার মজুদ ফের ১৮ বিলিয়ন (১ হাজার ৮০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রিজার্ভ এ যাবৎকালে দ্বিতীয়বারের মতো ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পেঁৗছায়।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় ১৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।
গত ৭ জানুয়ারি রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ রিজার্ভ।
৮ জানুয়ারি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭৬ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর এই সঞ্চয় ১৮ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।
রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারায় রিজার্ভ ফের ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর পরবর্তী বিল পরিশোধ করতে হবে। এর আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের উপরেই থাকবে।’
ছাইদুর রহমান বলেন, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেশ ভালো। মাসের প্রথম ১৭ দিনেই ৭৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। রপ্তানি আয়ও বাড়ছে।
এই গতি অব্যাহত থাকলে মার্চের আগেই রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।
তিনি জানান, বর্তমানে রিজার্ভে থাকা অর্থ দিয়ে ৬ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী একটি দেশের হাতে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান রিজার্ভ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ভারতের রিজার্ভ ২৭৫ বিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানের ১০ বিলিয়ন ডলার।
চালের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমে আসার বিষয়টি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে বলে মনে করছেন ছাইদুর রহমান।
২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের ৭ মে তা ১৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। আর ২২ অক্টোবর রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।