মহিষের জিনম উদ্ভাবন: দুগ্ধজাত খাতে আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচন নিয়ে হোটেল র‌্যাডিসনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ অন্য অতিথিরা।ছবি : কালের কণ্ঠ
অ-অ+
মহিষের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী জিনবিন্যাস বা জিনম উন্মোচন করায় দেশের আমিষ ও দুগ্ধজাত খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। পাশাপাশি যুগান্তকারী এই উদ্ভাবনের ফলে মহিষের রোগ-বালাই প্রতিরোধ এবং প্রজনন হবে আরো সহজতর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাল তীর লাইফস্টক লিমিটেড প্রতিনিধিরা এ ঘোষণা দেন। চীনের বেইজিং জিনম ইনস্টিটিউট (বিজিআই) লাল তীরকে মহিষের জিনবিন্যাস উন্মোচনে সহযোগিতা করেছে। উদ্ভাবকরা জানান, বিশ্বে এই প্রথম এই প্রাণীর জিনম বা জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের পুরো নকশা উন্মোচিত হলো। গরুর তুলনায় মহিষের মাংস ও দুধ অনেক বেশি পুষ্টিকর। তুলনামূলকভাবে গবাদি পশু অনেক বেশি উৎপাদনশীল এবং এর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই উদ্ভাবনের জন্য লাল তীর ও বিজিআইয়ের গবেষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে আমিষ ও দুধের ঘাটতি মোকাবিলায় এই উদ্ভাবন সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ভারত যেখানে ৬৭ শতাংশ মহিষের দুধ উৎপাদন করে, সেখানে এই হার বাংলাদেশে মাত্র ৩ শতাংশ। মহিষের জন্মরহস্য উন্মোচিত হওয়ায় এই খাতে বাণিজ্যিকভাবে আরো বেশি দুধ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে লক্ষ্য পূরণ করতে পারি, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। পাট ও ছত্রাকের জন্মের পর বেসরকারি উদ্যোগে মহিষের ডিএনএ নকশা উন্মোচিত হওয়ায় তা আরেকবার প্রমাণিত হলো।দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তাহলে আমরা অনেকদূর এগিয়ে যাব। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। রাজনৈতিক মত ও পথের ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রশ্নে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ জন্য আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. সৈয়দ আলী গহর রিজভী মহিষের জন্মরহস্য উন্মোচনকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লাল তীর একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স জন এফ ড্যানিলজ, বিজিআইয়ের গবেষক ড. চ্যাং প্রমুখ বক্তব্য দেন।লাল তীরের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এই উদ্ভাবন কাজে লাগানোর জন্য উপকূল অঞ্চলে মহিষের খামার গড়ে তোলা যায়। সেখানে অনেক বাড়িতেই এক বা একাধিক মহিষ রয়েছে। এসবই দেশের জন্য অনেক মূল্যবান সম্পদ। তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি না করে দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।  এ জন্য কৃষি ও গো-মহিষ পালন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।লাল তীরের পরিচালক তাবিথ এম আউয়াল জানান, দেড় বছর আগে হাতিয়ার একটি চর এবং দিনাজপুরের একটি এলাকা থেকে মহিষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর পশু সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনুমতি নিয়ে চালানো হয় এ গবেষণা। এর আগে বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জিনম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন। তিনি আরো জানান, মহিষের জন্মরহস্য উন্মোচিত হওয়ায় পশুপালনের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ও প্রজনন আরো সহজ হবে।