রফতানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার

চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে রফতানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশের বেশি। সহিংস রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে দেশের রফতানি খাত। আর তৈরি পোশাক খাতের অবস্থা সন্তোষজনক। একক মাস হিসাবে ডিসেম্বরে রফতানির পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশেরও বেশি। হরতাল অবরোধ তথা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এ আয় সন্তোষব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানূসারে এসব জানা গেছে।
ইপিবি সূত্র জানায়, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার। যা মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি । যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০৯ কোটি ৮ লাখ ডলার বেশি। এ সময়ে সার্বিকভাবে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। শুধু তাই নয়, প্রধান দুই রফতানি পণ্যের একটি নিট পোশাক খাতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ১৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আর ওভেন পোশাক খাতে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশের কিছু বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সার্বিক রফতানি আয় তৈরি পোশাক খাতের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আয়ের এক তৃতীয়াংশই আসে এখাত থেকে। কয়েক মাসের অস্বস্তিকর ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির কারণে এখাতের রফতানির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে এ প্রবৃদ্ধি একটি শক্ত অবস্থান এটা বলা যেতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি পণ্য রফতানি হয়েছে। ডিসেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ২৭২ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ বেশি। এই মাসে সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। আর এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৬ মাসে রফতানি আয়ের শীর্ষে রয়েছে নিট পোশাক খাত। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাছাকাছি গিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওভেন পোশাক খাত। নিট পোশাক খাতে আয় হয়েছে ৫৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এখাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪০ কোটি ৮ লাখ ডলার। বেশি রফতানি হয়েছে ১০ দশমিক ০২ শতাংশ । গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সে সময় রফতানি আয় ছিল প্রায় ৪৯৭ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ওভেন পোশাকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি রফতানি হয়েছে। ৫৮৭ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৯৮ কোটি ৫১ লাখ ডলার। তবে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ শতাংশের কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় ওভেনে আয় ছিল ৪৯৭ কোটি ডলার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, তাজরীন ফ্যাশন ও রানা পাজা দুর্ঘটনার পর দেশের রফতানি আয়ের প্রধান দুই খাত চরম ইমেজ সংকটে ভুগেছে এবং ভোগছে। এ অবস্থায় মধ্যেও রফতানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। কেননা হরতাল অবরোধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় রফতানি আয়ে ধস নামার আশংকা ছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পোশাক খাতের ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এ অবস্থায় ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসলে বড় ধরনের বিপর্যয় আসতে পারে। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে রফতানি আয়ে ৩০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি সম্ভব ছিল। রফতানি আয়ের অন্যান্য খাতের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

যুগান্তর রিপোর্ট